Author Topic: তিসির যত গুণাগুন  (Read 139 times)

0 Members and 1 Guest are viewing this topic.

LamiyaJannat

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 495
  • Gender: Female
    • View Profile
তিসির যত গুণাগুন
« on: March 08, 2020, 03:49:55 PM »
তিসি(ইংরেজিতে linseed,বৈজ্ঞানিক: linum usitatissimum) তেল ও আঁশ উৎপাদনকারী গুল্ম থেকে পাওয়া বীজ। বাংলাদেশের যশোর,পাবনা,ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা  ও রাজশাহীতে তিসি বেশি জন্মে।

উপাদান:

তিসি হলো একটি তেলজাতীয় বীজ যা একইসাথে ভালো আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য। এতে আছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, এন্টি অক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, মিনারেলস। এছাড়া ভিটামিন -বি- কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমানে বিদ্যমান থাকে।
তিসিতে বিদ্যমান এন্টি অক্সিডেন্ট দেহকে শক্তিশালী করে এবং সহজে ক্লান্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে।তিসির তেল ভোজ্য তেল নয়,এটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অয়েল হিসেবে বহুল পরিচিত।এমকি মিশরে লিলেন জাতীয় বস্ত্র তৈরিতেও তিসি ব্যবহৃত হয়।আসুন জেনে নেওয়া যাক তিসির জানা অজানা যত গুণ।

তিসির উপকারি ভূমিকা:

   খাদ্য হজমে সাহায্য করে। পরিমিত গ্যাস্ট্রিক ও আলসার দূর করে।
   অতিরিক্ত মেদ কমায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিসি আমাদের HDL বা ভালো ফ্যাটকে বাড়ায় এবং কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে।
   তিসিতে বিদ্যমান এন্টিঅক্সিডেন্ট ব্লাড ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
   তিসির ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ব্লাড প্রেসার কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ২চামচ তিসির পাউডার উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য উপকারি।
   তিসি হৃৎপিন্ড সবল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া হার্টে ব্লক এবং অনিয়মিত হার্টবিট রোধ করতেও সাহায্য করে।
   যারা ডায়াবেটিস এর রোগী, যদি প্রতিদিন ১৫-২০গ্রাম তিসি সেবন করেন তবে ডায়াবেটিস এর মাত্রা কমিয়ে আনা যায়।
   এটি শরীরের ক্যালসিয়াম লেভেলকে বাড়িয়ে দেয়,যার ফলে হাড় ও শরীরের জয়েন্ট গুলো সুস্থ থাকে।
   তিসি বীজ সাধারণত fertility বাড়ায়। এটি মেনোপোজের সময়কালীন ব্যাথা দূর করতেও অনেক উপকারী।
   তিসির আঁশ শরীরের toxic বা দূষিত পদার্থ নিষ্কাসনে সাহায্য করে।
   তিসি ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।এটি মুখের বলিরেখা দূর করে,ব্রন প্রতিরোধ করে,ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে,চুল পড়া রোধ করে,চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে,খুশকি প্রতিরোধ করে।
   তামাক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন খাবার পর অল্প পরিমানে তিসি চিবালে রোগী উপকৃত হবে।

তিসি খাওয়ার কিছু উপায়:

   তিসি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে,শুকিয়ে এবং ভেজে নেওয়া ভালো।তারপর এটির পাউডার তৈরি করে গ্রহন করতে হবে।
   প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে এবং সকালের নাস্তার পূর্বে খাতে হবে।তবে রাতে খেলে এর কার্যকারিতা বেশি হয়ে থাকে।
   প্রতিদিন ১চা চামচ করে খাওয়া উচিত।কিন্তু এর থেকে বেশি খেলে ডায়রিয়া এবং গেস্ট্রিক হতে পারে।
   জটিল কোনো রোগ থাকলে তিসি না খাওয়াই উচিত।
   তিসির ফ্যাটি এসিড ক্যারোটিন হতে দেহে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে শিশুদের ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরন হয়।
   তিসি কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ২ গ্লাস পানিতে ৩ চামচ তিসির পাউডার মিশিয়ে পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব।

তিসি পরিবেশনের কয়েকটি পদ্ধতি :

   তিসি দিয়ে খুব সুস্বাদু ভর্তা বানানো যায়। অল্প তাপে ভাজা রোস্টেট তিসিতে পরিমাণমত পেঁয়াজ,মরিচ,লবন,ধনে পাতা দিয়ে বেটে নিলে ভর্তা তৈরি হয়ে যাবে।
   বাচ্চাদের অতি পছন্দের তিসির নাড়ু তৈরি করা যায় গুড় এবং ভাজা তিসি ব্যবহার করে।
   তিসিকে গুড়ো করে পাউডার বানিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষন করা যায়।



Source: pushtibarta