Author Topic: কেমন হবে আপনার করপোরেট লাইফ?  (Read 176 times)

0 Members and 1 Guest are viewing this topic.

LamiyaJannat

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 495
  • Gender: Female
    • View Profile
কর্পোরেট লাইফ, জীবনের সবচেয়ে ব্যস্ততম একটি সময়। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা টানা ডেস্কে বসে কাজ করে যাওয়া, তারপর সন্ধ্যায় শহরের এই অসহ্য জ্যাম ঠেলে বাড়ি ফেরা। এসবের মাঝে নিজের যত্ন নেওয়াতো দূর, ঠিকমত খাওয়া দাওয়ারইবা সময় কই? তার উপর সময় নেই কোন শরীরচর্চারও। ফলাফল স্বরূপ মেলে নানারকম শারীরিক জটিলতা এবং অকালেই বুড়িয়ে যাওয়া।

কর্পোরেট লাইফ বলতে মূলত কর্মজীবন বোঝালেও এখন এর আমেজ শুরু হয়ে যায় মোটামুটি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই। আজকাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করায় তাদের জীবনও হয়ে পড়েছে কর্পোরেট লাইফের মতই অতি ব্যস্ত।

সকাল সন্ধ্যা অফিসের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় খুব সকালেই। অনেকেরই আবার অভ্যাস আছে সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছুই খেতে পারেন না। আবার সকালেই অফিসে চলে যেতে হয় বলে বেশির ভাগেরই সকালে নাস্তা করা হয়ে ওঠে না। বদলে অফিসেই গিয়ে খেয়ে নিতে হয় বাইরের খাবার। এভাবে সারাদিনে বাইরের ফাস্টফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাতে হয়। তারপর আবার রয়েছে একটানা কম্পিউটারের সামনে বসে ডেস্কজব, যার ফল, ঘাড় ব্যথা, মাথা ব্যথা ইত্যাদি। বাড়ি ফিরেও ক্লান্তির কারণে অনেক সময় খাবার তৈরি করারও ধৈর্যও থাকে না।ফলে লাগাতার বাইরের খাবার বাড়িয়ে দিতে পারে স্থূলতাও।

কর্পোরেট লাইফের জটিলতাঃ

কর্পোরেট লাইফে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ফলে দেখা দেয় নানা শারীরিক ও মানসিক যেসব জটিলতা। এগুলো হলঃ
   টানা টেবিলে কিংবা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার ফলে দেখা দেয় ঘাড় ও পিঠে ব্যথা এবং চোখের সমস্যা।
   অতিরিক্ত কাজের চাপ ও নিয়মিত বাইরের ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে বেড়ে যায় উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়বেটিসের ঝুঁকি।
   বাইরের খাবার বেশি খাওয়ার ফলে দেখা দিতে পারে গ্যাস্ট্রিক, আলসার ও পেটের সমস্যা।
   টানা একঘেয়ে কাজ ও কাজের চাপ প্রভাব ফেলতে পারে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। ফলে বৃদ্ধি পায় ক্লান্তি ও মানসিক বিষণ্ণতা।
   শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে হতে পারে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা।
   অনেক সময় বদ্ধ পরিবেশে কাজ করা, ধূমপান, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন ইত্যাদির অতিরিক্ত ব্যবহার প্রভাব ফেলে ফুসফুসের উপর।

ক্যালরি চাহিদাঃ

বয়স অনুসারে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর দৈনিক ১৬০০-২৪০০ কিলো ক্যালরি এবং পুরুষের দৈনিক ২০০০-৩০০০ কিলো ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন। বয়স, শারীরিক গঠন ও কাজের ধরন অনুসারে এই পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ ও জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবন যাপন করা সম্ভব।
কথায় আছে, সকালে খাও রাজার মত, দুপুরে খাও প্রজার মত, রাতে খাও ভিখিরির মত। অর্থাৎ দৈনিক ক্যালরি চাহিদার অধিকাংশ সকালেই গ্রহণ করা উচিৎ এবং এই পরিমাণ হতে হবে সম্পূর্ণ ক্যালরি চাহিদার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। সকাল থেকে দুপুরের আগের সময়ের মধ্যে অন্তত ৬০০-৮০০ কিলো ক্যালরি গ্রহণ করে নিতে পারলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যাবে এবং পেটও ভরা মনে হবে, যা অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করবে। বাকি ক্যালরি দিনের বাকি সময়ের খাবারে পর্যায়ক্রমে গ্রহণ করতে হবে।

স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলঃ

   প্রথমেই বুঝেশুনে খেতে হবে। অফিসের লাঞ্চে হোক কিংবা অফিস পার্টি, কোথাও আবেগের বশে কিংবা ভদ্রতার খাতিরেই অতিরিক্ত খাবার কিংবা তৈলাক্ত বা জাঙ্কফুড খাওয়া যাবে না। সকালের নাস্তা বাসায়ই করার চেষ্টা করুন, যেন বাইরের খাবার খেতে না হয়।
   যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর তাজা ফল-সবজি ও খাবার রাখার চেষ্টা করুন।
   সাধারণত কাজের চাপে আমাদের পানি খাওয়ার কথা মাথায়ই থাকে না।ফলে হতে পারে পানিশূন্যতা। তাই খেয়াল করে একটু পর পর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
   অতিরিক্ত ক্যাফেইন উচ্চরক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতা বাড়াতে পারে, অতএব অতিরিক্ত চা-কফি খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
   একটানা কাজ না করে মাঝে মাঝেই ছোটখাটো বিরতি নিন, যা ক্লান্তি দূর করবে এবং আপনার কাজ করার আগ্রহ বাড়িয়ে দেবে।
   কাজের স্থান ও এর চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও গুছিয়ে রাখুন। এতে করে কাজে মন বসবে এবং স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।
   দুশ্চিন্তা করা পরিহার করুন এবং কাজের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
   প্রতিদিন কমপক্ষে আধাঘণ্টা ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। সম্ভব না হলে অন্তত আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা জোরে হাঁটুন।
   ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

নির্দেশিকাঃ

এতক্ষণ তো গেল লাইফস্টাইলে, এবার আসা যাক পুষ্টির ব্যাপারে।
   আগেই বলা হয়েছিলো প্রতিদিনের খাবারের এক তৃতীয়াংশ সকালের খাবারে গ্রহণ করার কথা। এবার জেনে নেই কেমন হবে সেই খাবার। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় শস্যজাতীয় ভারী খাবারের পাশাপাশি খেতে হবে প্রোটিন জাতীয় খাবার। আর প্রোটিনের সবচেয়ে ভাল উৎস হল ডিম। তাই সকালের নাস্তায় ডিম রাখার চেষ্টা করতে হবে অবশ্যই।
   নাস্তায় রাখতে হবে তাজা ফল। সারাদিনে যেহেতু কাজের চাপে ফল খাবার সুযোগই হয় না, তাই রোজ নাস্তার সাথে খেতে হবে কোন মৌসুমি ফল, যা আপনার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করবে এবং দেহকে সতেজ রাখবে।
   প্রসেসড ফুড কম খেয়ে বাড়িতে তৈরি খাবার খেতে হবে। যেমন পাউরুটি বা নুডলস জাতীয় খাবার এড়িয়ে আটার রুটি খাওয়া বেশি স্বাস্থ্যকর।
   কাজের ফাঁকে যখন তখন ক্ষুধা পেলে বাইরের খাবার না খেয়ে চেষ্টা করতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার। এক্ষেত্রে সাথে রাখতে পারেন শুকনো ফল বা অন্য খাবার, যেমন, খেজুর, বাদাম, গাজর কিংবা আপেল। এসব খাবার যেমন ক্ষুধা মেটাবে একই সাথে যোগাবে ফাইবার ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।
   দুপুরের খাবার নিয়ে যেতে পারেন বাসা থেকেই। বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া যদি সম্ভব না হয় কিংবা আজকাল অনেক অফিসেই দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করাই থাকে, সেই ক্ষেত্রে খাবারে শুধু মাছ-মাংসই না খেয়ে সাথে পর্যাপ্ত সব্জি ও সালাদ খেতে হবে। খাওয়ার পর সাথে সাথে পানি না খেয়ে আধা ঘণ্টা পর পানি খাওয়া ভাল।
   বিকালে নাস্তায় বাইরের খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর ও বাড়িতে তৈরি খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত তেল বা মিষ্টিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। নাস্তায় দুধজাতীয় খাবার, যেমন কাস্টার্ড রাখা যেতে পারে। এতে দুধের সাথে ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ হবে।
   রাতে তুলনামূলক হালকা খাবার খেতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার কমিয়ে সবজি ও প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে। সারাদিনের প্রধান খাবারে মাংসের চেয়ে মাছের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এতে অতিরিক্ত ফ্যাট পরিহার করা যাবে। বড় মাছের চেয়ে ছোট মাছ স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভাল। ছোট মাছ ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ এর ভাল উৎস।
   খাওয়ার পর সাথে সাথে শুয়ে না পড়ে বরং ঘুমানোর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগেই খাবার খেয়ে নিন। খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে হজমশক্তি বাড়ার পাশাপাশি ঘুমও ভাল হবে।
   এছাড়াও যেকোনো শারীরিক জটিলতা কিংবা প্রয়োজনে আপনার সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা জানতে যোগাযোগ করুন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান বা পুষ্টিবিদের সাথে।
আপনার দেহ আপনার মন্দির। একে সুন্দর ও সুস্থ রাখার জন্য আপনার চলাফেরা থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস আপনাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারন শরীরটা যখন আপনার, তাকে সুস্থ ও সুন্দর রাখার দায়িত্বটাও তো আপনারই।

Source: Pushtibarta