Author Topic: ওজন কমাতে যে ১০টি কাজ কখনোই করবেন না!  (Read 8 times)

0 Members and 1 Guest are viewing this topic.

LamiyaJannat

  • Sr. Member
  • ****
  • Posts: 417
  • Gender: Female
    • View Profile
ওজন বেড়ে যাওয়া আজকাল প্রায় প্রত্যেকের জীবনেই একটি বিরাট সমস্যা। নিজেকে সুন্দর পরিপাটি রাখতে সবাই সুন্দর স্লিম স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চায়। এমনি অনেক রোগ বালাই থেকেই মুক্ত থাকতে ডাক্তার-রাও এখন ওজন কম রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওজন কমাতে গিয়ে আমাদের কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। যেসব ভুলের কারণে অজান্তেই অনেক চেষ্টার পরও ওজন কমার পরিবর্তে ওজন বেড়ে যাচ্ছে।
চলুন জেনে নেই, ওজন কমাতে যে ১০টি কাজ কখনোই করা যাবে না।

১. খাবারে ক্যালোরির পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া

একজন স্বাভাবিক মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন নূন্যতম ১২০০ ক্যালোরি পূরণ করতে হয়।
তাই ওজন কমাতে খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি জাতীর খাবার অবশ্যই রাখতে হবে।

যেসব খাবার ওজন কমাতে সাহায্য করে
জলপাইয়ের তেল, সূর্যমূখীর তেল, এভোক্যাডো, বাদাম, আটার রুটির পরিবর্তে গমের রুটি,
হোল হুইল ব্রেড (Whole Wheel Bread), বার্লি (Barley), পরিমাণমতো মাংস, মাছ, তেল ছাড়া পপকর্ন
ইত্যাদি খাবার কখনোই আপানার ওজন বাড়াবে না।

২. পুরো খাবার গ্রহণ না করা   
পেটে ক্ষুধা রেখে, খাবার গ্রহণ না করা কখনই উচিত না। এতে শারীরিক দুর্বলতা সৃষ্টি হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাবার তিনবেলা খেতে হবে এবং অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।

৩. খাবার এড়িয়ে যাওয়া   
ওজন কমানোর জন্য অনেকেই সকালের নাস্তা বা রাতের খাবার এড়িয়ে যান,  এটি একটি ভুল ধারণা।
সকালের খাবার না খেলে ওজন বৃদ্ধি পায় এবং খালি পেটে গ্যাস্ট্রিক (Gastric) এবং অ্যাসিডিটির (Acidity)
মতো রোগ দেখা দিতে পারে। তিন বেলা খাবার না খাওয়া ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

৪. ব্যায়ামের পর অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ  
ব্যায়ামের পর স্বভাবতই বেশি ক্ষুধা লাগে, কিন্তু ব্যায়ামের পর কখনোই ফাস্টফুড জাতীর খাবার
গ্রহণ করা যাবে না বা ব্যায়াম করেছেন বলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। এটি আপনার ওজন বৃদ্ধি করে।

৫. অতিরিক্ত ব্যায়াম
অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অতিরিক্ত ব্যায়াম করেন, এটি ঠিক না।
অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলে আপনার মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং আপনি অসুস্থ হতে পারেন।
ব্যায়ামের মাত্রা হতে হবে সহনীয় এবং ধীরে ধীরে এর মাত্রা বাড়াতে হবে।

৬. রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পরা

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩-৪ ঘন্টা আগে রাতের খাবার খেতে হবে, যাতে খাবারটি হজম হয়ে যায়।
 ওজন বৃদ্ধিতে একটি বড় কারণ রাতের খাবার হজম না হওয়া। অবশ্যই রাতে খাবারের পর কিছুক্ষণ
হাঁটাহাঁটি করবেন তা না হলে খাবার হজম হতে সময় নিবে।

৭. অনিয়মিত ঘুম
আমাদের একটি প্রচলিত ধারণা হলো ঘুমালে মানুষ মোটা হয় বা ওজন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অনিয়মিত ঘুম
অর্থাৎ কম ঘুমানো বা বেশি ঘুমানো ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক। স্বাভাবিক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা
ঘুমানো আবশ্যক। তাই পর্যাপ্ত ঘুম অবশ্যই নিশ্চিত করবেন।

৮. মানসিক চাপ
 

 অতিরিক্ত মানসিক চাপে মানুষ বেশি খাবার গ্রহণ করে, এটি ওজন বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ।
মানসিক চাপে নিজেকে অন্য কোন কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন এবং ফাস্টফুড জাতীর খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

৯. পানি কম পান করা

পানি খাবার হজম করতে সাহায্য করে, দিনে অন্তত ১ লিটার পানি খেলে, বছরে ২ কেজি ওজন কমে যায়।
পানি কম পান একেবারেই ঠিক নয়। প্রতিদিন তাই পরিমিত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

১০. ক্র্যাশ ডায়েট
   
 
ক্র্যাশ ডায়েটকে না বলুন। ক্র্যাশ ডায়েটে খুবই দ্রুত ওজন কমে যায় এবং এই ডায়েটে আপনার খাদ্য তালিকায় অনেক
গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য বাদ পরে যায়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। খুব দ্রুত ওজন কমানোর পর, ক্র্যাশ ডায়েট ছেড়ে দিলে আবার
দ্বিগুণ হারে আপনার ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।

সর্বপরি ওজন কমাতে এই ভুলগুলোর কারণে আপনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হতে পারেন। তাই এই ১০টি কাজ কখনোই করবেন না।


Source: Shajgoj