Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Messages - LamiyaJannat

Pages: [1] 2 3 ... 30
1


দেশি টক  ফলগুলোর কথা চিন্তা করলে প্রথমেই যার নাম আসে,তা হলো আমলকি।   ভেষজ গুণে অনন্য একটি ফল এটি।এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা হয়। অসুখ সারানো ছাড়াও আমলকি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করে। আমলকির গুণাগুণের জন্য আয়ুর্বেদিক ওষুধেও এখন আমলকির নির্যাস ব্যবহার করা হয়।এই সুস্বাদু টক স্বাদের ফলটি যে শুধু ভিটামিন সি এর উৎস তা নয় বরং এটি মুখের রুচি বাড়াতেও রাখে অনস্বীকার্য ভূমিকা। আসুন জেনে নেই কিভাবে মুখের রুচি বৃদ্ধিকারক হিসেবে আমলকি কাজ করে-
আমলকিতে রয়েছে উচ্চতর ধরণের আঁশ,যা ক্ষুদ্রান্ত্রের সংকোচন-প্রসারণে সাহায্য করে যার ফলে দেহ হতে সকল বিষাক্ত  উপাদান দূর হয়ে যায় এবং দেহকে হালকা অনুভূত হয় যা ক্ষুধাবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।এছাড়া, আমলকি মানবদেহে প্রোটিনের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়,যা পরিপাক বা বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।তারই ফলশ্রুতিতে  ক্ষুধামান্দ্য দূর হয় এবং মুখের রুচি বাড়ে।

শুধু যে মুখের রুচি বাড়াতে আমলকি কার্যকরী ভূমিকা রাখে তা নয় বরং এর রয়েছে আরো নানান উপকারিতা। আসুন জেনে নেই আমলকির গুণ কীর্তন-

১.আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে।

২.আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম রুখতে সাহায্য করে।

৩.এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

৪.আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচার হজমে সাহায্য করে।

৫.প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

৬.আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৭.প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে।

৮.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকি অনেক উপকারী। ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকির জুস উপকারী।

৯.শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে। এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকির আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

১০.ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

১১.হৃদপিন্ড,শ্বসনতন্ত্র,প্রজনন-তন্ত্র এবং রক্তসংবহনতন্ত্র সুস্থ রাখতে আমলকি কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

১২.ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে আমলকি অতুলনীয়।


Source: পুষ্টি বার্তা

2
আজকাল অনেক মানুষ ওজন কমানোর জন্য নানারকম ডায়েট অনুসরণ করেন। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটির নাম কিটো ডায়েট।যা লো কার্ব (Low Carb) বা হাই ফ্যাট(High Fat) ডায়েট নামেও পরিচিত। কেননা খাদ্যতালিকা থেকে শর্করাজাতীয় খাদ্য যেমন- ভাত,  রুটি, আলু ইত্যাদি কমিয়ে স্নেহ এবং প্রোটিনজাতীয় খাদ্য যেমন- উদ্ভিজ্জ তেল, মাছ, মাংস, পনির ইত্যাদি যোগ করে বা পরিমাণে বাড়িয়ে এই ডায়েট প্রস্তুত করা হয়। যদিও অন্যান্য লো ক্র্যাব ডায়েট, যেগুলো মূলত প্রোটিনের উপর নির্ভরশীল, তাদের তুলনায় কিটোজেনিক ডায়েট বেশ ভিন্ন। এই ডায়েটে মূল আকর্ষণ ফ্যাটের আধিপত্য, যা থেকে ৯০ শতাংশ শক্তি পাওয়া যায়।  হতে পারে, এই ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকাতে দ্রুত ওজন হ্রাস পায় বিধায় অনেকে এটি অনুসরণ করে এবং ইন্টারনেটে এর প্রচার- প্রসার তুঙ্গে । কিন্তু স্মরণ রাখা উচিত এটি এমন ধরণের ডায়েট নয় যা পরীক্ষামূলকভাবে ওজন কমানোর উদ্দেশে নিজের উপর প্রয়োগ করা যায়। আসুন জেনে নেই কিটো ডায়েটের ভালো-মন্দ, সবদিক।

কীভাবে কাজ করে কিটো ডায়েটঃ

শর্করাজাতীয় খাদ্য পরিহার করার ফলে দেহ তার শক্তির মূল উৎস গ্লুকোজ পায় না। যার ফলে দেহ সঞ্চিত চর্বি খরচ করে শক্তি উৎপাদন করে। ফলে দেহের সঞ্চিত চর্বি কমে যায় এবং ওজন হ্রাস পায়।

কিটো ডায়েটের ফলাফলঃ

আমাদের মস্তিষ্ক শুধুমাত্র গ্লুকোজ থেকেই শক্তি পায়। কিটো ডায়েট পালনের প্রথম পর্যায় খাদ্য থেকে গ্লুকোজ না পেয়ে মস্তিষ্ক যকৃত এবং মাংসপেশির সঞ্চিত গ্লুকোজ আহরণ করে। ৩-৪ দিনের মধ্যে সঞ্চিত গ্লুকোজ শেষ হয়ে গেলে ইনসুলিন লেভেল কমে যায়। দেহ সম্পূর্ণরূপে চর্বির উপর নির্ভর হয়ে পরে। যকৃত চর্বি থেকে কিটোন বডি উৎপাদন করতে থাকে যা গ্লুকোজের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়।

উপকারিতাঃ
   স্বল্পমেয়াদে কিটো ডায়েট পালনে দেহের সঞ্চিত চর্বি হ্রাস পায়।
   স্নেহজাতীয় খাদ্য অতিরিক্ত পরিমাণে খাদ্যগ্রহণের ইচ্ছা (ফুড ক্রেভিং) কমায়।
   শর্করাজাতীয় খাদ্যের পরিমাণ কমানোয় ক্ষুধাবর্ধক হরমোন কম নিঃসরিত হয়।
   দেহের ক্যালরি চাহিদা বেড়ে যায়।

জটিলতাঃ
   দীর্ঘমেয়াদি কিটো ডায়েটের ফলে কিটোন বডির পরিমাণ অত্যধিক মাত্রায় বেড়ে গেলে কিটোএসিডোসিস হতে পারে, যা মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়।
   এর ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
   দীর্ঘমেয়াদি কিটো ডায়েট পালন অস্টিওপোরসিস বা হাড়ক্ষয়ের কারণ হতে পারে।
   এর ফলে রক্তে ইউরিক এসিডও বাড়তে পারে যা বাতের সূচনা করে।
   সঠিক নিয়মে কিটো ডায়েট পালন করতে না পারলে নানারকম পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত রোগ দেখা দিতে পারে।
   শুধুমাত্র চর্বিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
   অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিনজাতীয় খাবার গ্রহণ করলেও তা বিপাকে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
   কারো যকৃতে সমস্যা থাকলে সমস্যার অবনতি ঘটে।
   কিটো ডায়েটে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
   অনেকে ক্ষুধা, ক্লান্তি, মাথাব্যাথা, খিটখিটে মেজাজ, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়াসহ আরো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।

কিটো ডায়েট কি মানবো নাকি মানবো না?
এপিলিপটিক সিজার, (epileptic seizure)  এক ধরণের খিঁচুনি, এটিতে বাচ্চারা আক্রান্ত হলে তাদের কিটো ডায়েট দেয়া হয়। তাতে খিঁচুনির হার হ্রাস পায়। প্রয়োগ হতে বোঝা যাচ্ছে বর্তমানে কিটো ডায়েট দ্বারা ওজন কমানোর যে প্রচলন শুরু হয়েছে তার সাথে বাস্তবিক ক্লিনিকাল প্রয়োগের কোনো সামঞ্জস্য নেই। যদিও দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে কিটো ডায়েট কার্যকরী এবং অনেক ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদ ব্যাক্তি বিশেষের অবস্থার কথা বিবেচনা করে এই ডায়েট অনুসরন করতে বলে থাকে । তবে সঠিক পদ্ধতিতে মানতে না পারলে এটি সৃষ্টি করতে পারে নানারকম দৈহিক সমস্যা। কেননা গবেষকরা এখন বলতে পারছেন নাহ কি পরিমাণ সময় এই ডায়েট অনুসরণ করা নিরাপদ। এজন্য কোনো ডায়েট অনুসরণ করার আগে জেনে নেওয়া উচিত এর আদ্যপান্ত, নিজ শারিরিক-মানসিক অবস্থা এবং ডায়েট করার উদ্দেশ্য । তাই কিটো  ডায়েট মানতে চাইলে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

source: পুষ্টি বার্তা

3
আমরা সবাই জানি যে খাবার খেলেই শরীরে মেদ জমে। কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে শরীরের বাজে মেদ বার্ন হয়ে যায়। আর সেই খাবারগুলো যদি সকালের নাস্তায় খাওয়া যায় তাহলে সেটা আমাদের শরীরে সারাদিনের জন্য পুষ্টি সরবরাহ করে। আর তাই আজকে এমন কিছু খাবারের কথা বলবো যেগুলো নিয়ম করে সকালের নাস্তায় খেলে শরীরের ফ্যাট বার্ন হয়ে শরীর হবে মেদহীন এবং সুস্থ।

চলুন তবে জেনে নেই ফ্যাট বার্ন করার খাবার কী কী হতে পারে?

১) হোল গ্রেইন- ওটস, চিনি ছাড়া কর্ণ ফ্লেক্স
সকালের নাস্তায় ওটস, চিনি ছাড়া কর্ণ ফ্লেক্স, লাল আটার রুটি এ জাতীয় খাবার খেলে পেট ভরে যায় খুব সহজে এবং এই খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে বলে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরে যায়।

২) ফ্রুট সালাদ এবং সবজি

ফ্রেশ সবজি এবং সালাদ আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কারণ এ জাতীয় খাবারে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং ফাইবার যা অনেকক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৩) হাই প্রোটিন খাবার
যেসব খাবারে হাই প্রোটিন থাকে সেগুলো আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এ ধরনের খাবারের মধ্যে আছে- ডিম, বিভিন্ন জাতীয় ডাল, ফ্যাট ছাড়া চিকেন ইত্যাদি। সকালের নাস্তায় এসব খাবার খেলে সারাদিন ক্ষুধা কম হবে এবং এর ফলে ক্যালরিও কম গ্রহন করতে হবে।

৪) বাদাম জাতীয় খাবার
বিভিন্ন ধরনের বাদাম যেমন- কাঠবাদাম, চীনাবাদাম, পেস্তাবাদাম, কাজু বাদাম ইত্যাদি খাবারে থাকে প্রাকৃতিক ফ্যাট যা আমাদের ত্বকের ও চুলের জন্য খুবই উপকারী। একই সাথে এ ধরনের খাবার শরীরে জমে থাকা ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে।

৫) লেবু-মধু পানীয়
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস পানিতে (নরমাল অথবা উষ্ণ) লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ও ফ্যাট বার্ন হয়ে যায় বিশেষ করে পেটে জমে থাকা চর্বি কমাতে এই পানীয় খুবই উপকারী। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে- খালি পেটে লেবু খেলে অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। তাই আপনার শরীর এটা সহজভাবে গ্রহন করছে কি না সেটা খেয়াল করতে হবে। যদি এই পানীয় খাবার ফলে কোন রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তবে সাথে সাথে খাওয়া বাদ দিতে হবে।

৬) গ্রীন টি

গ্রিন টি আমাদের শরীর ও মনকে তাজা ও ক্লান্তিহীন রাখতে সাহায্য করে। গ্রিন টি আমাদের শরীরের ফ্যাট বার্নিং হরমোনকে সক্রিয় করে তোলে ফলে খুব সহজেই শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমতে শুরু করে।

উপরের এই খাবারগুলো খাওয়ার সাথে সাথে কিছু খাবার বাদও দিতে হবে এবং কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। যেমন- 
১. চিনিযুক্ত খাবার, প্যাকেটজাত জুস খাওয়া বাদ দিতে হবে।
২. বিভিন্ন ধরনের ক্যানড খাবার বাদ দিতে হবে। কেননা ক্যানড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণ কোলেস্টরল এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে যা শরীরে প্রচুর পরিমাণ মেদ জামায়।
৩. ফ্রোজেন খাবার, ভাজা পোড়া এবং ফাস্ট ফুড খাওয়া একদমই বাদ দিতে হবে।
৪. সব সময় খাবার খাওয়ার আগে পানি পান করুন এবং প্রতিদিন কমপক্ষে ২-২.৫ লিটার পানি পানের অভ্যাস করুন।
৫. খাবার সব সময় আস্তে আস্তে সময় নিয়ে খেতে হয়। এতে খাবার ভালোভাবে হজম হয়।
৬. টিভি দেখতে দেখতে কিংবা কোন কাজে ব্যস্ত থেকে খাবার খাবেন না। এতে বেখেয়ালে বেশী পরিমাণে খাবার খাওয়া হয়ে যায়।
৭. সব সময় চেষ্টা করবেন ছোট প্লেট কিংবা পাত্রে খাবার খাওয়ার জন্য। এতে পরিমাণে কম খাবার খাওয়া হয়।
৮. ক্যাফেইন শরীরের মেটাবলিজমকে বুস্ট করতে সাহায্য করে। তাই চিনি ছাড়া চা এবং কফি পান করতে পারেন।
৯. প্রতিদিন পরিমিত পরিমান ঘুমের প্রয়োজন। ভালো এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে হরমোনাল সমস্যা দেখা দেয় যার ফলে ওজন বেড়ে যায়।
১০. সঠিক ডায়েট, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সাথে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হাঁটা কিংবা এক্সারসাইজ করাটা খুব জরুরি।

অতিরিক্ত ওজন বিভিন্ন ধরনের অসুখ এবং শারীরিক সমস্যার তৈরি করে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে নিয়ম মেনে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট বার্ন করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

Source: Healthline.com


4
ক্যান্সার বা কর্কট রোগ মানুষের কাছে এখনও একটি অভিশাপ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এতো উন্নতির পরও এই রোগের সঠিক কারণ বা দ্রুত চিকিৎসা করে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

মুখের ক্যান্সার বা ওরাল ক্যান্সার নিয়ে যত কথা


মুখের ক্যান্সার কী?

মুখের ক্যান্সারএমন এক ধরনের ক্যান্সার, যা মুখ বা ঠোঁটের টিস্যুুগুলোতে হয়ে থাকে। এটি মাথা ও গলার ক্যান্সারের অন্তর্ভুক্ত। যা বেশিরভাগ সময়ে মুখ, জিহ্বা ও ঠোঁটের স্কোয়ামাশ টিস্যুতে হয়ে থাকে। প্রতি বছর আমেরিকাতে প্রায় ৪৯,০০০ এরও বেশি  মানুষ Oral Cancer বা মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় যাদের মধ্যে অধিকাংশের বয়সই ৪০ বছরের বেশি।

মুখের ক্যান্সারের ধরন

মুখের ক্যান্সারের মধ্যে নিচের ক্যান্সারগুলো বেশি দেখা যায়ঃ
১. ঠোঁট
২. জিহ্বা
৩. গালের ভিতরের অংশ
৪. মাড়ি
৫. মুখের তালু
কোন ধরনের অস্বাভাবিকতা সাধারণত প্রথমে ডেন্টিস্টের কাছেই ধরা পড়ে। এ জন্য বছরে দুই বার দাঁত ও এর আশপাশের অঞ্চল পরীক্ষা করানো জরুরি।

মুখের ক্যান্সার হবার কারণ

মুখে ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ হলো তামাক গ্রহণ করা। সেটা হতে পারে সিগারেট, চুরুট বা জর্দার মাধ্যমে। যারা নিয়মিতভাবে বেশি পরিমাণে মদ্যপান এবং তামাক সেবন করে থাকে তারা এই রোগের ঝুঁকিতে আছে সবচেয়ে বেশি। অন্যান্য কারণগুলো হলোঃ
১) হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) ইনফেকশন
২) মুখে দীর্ঘদিন অনেকটা সময় সূর্যের আলো পড়লে
৩) পরিবারের কারোর এই ক্যান্সার হওয়ার পূর্ব ইতিহাস থেকে থাকলে।
৪) দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
৫) অপুষ্টি
৬) লিঙ্গ
গবেষণায় দেখা গেছে মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা প্রায় দ্বিগুণ।

মুখের ক্যান্সার এর লক্ষণ

মুখের ক্যান্সারের লক্ষণগুলো হলোঃ
১) ঠোঁট বা মুখে দীর্ঘদিনের ঘা
২) মুখের যে কোন জায়গায় অস্বাভাবিক কোন গোঁটা বা পিন্ড দেখা দেওয়া
৩) দাঁত পড়ে যাওয়া
৪) গিলতে ব্যথা বা অসুবিধা বোধ করা
৫) গলায় কোন পিন্ড দেখা দেওয়া
৬) কানে ব্যথা অনুভূত হওয়া
৭) ওজন অল্প সময়ের মধ্যে অনেকখানি কমে যাওয়া
৮) নিচের ঠোঁট, মুখ, গলা বা গালে অবশতা অনুভূত হওয়া
৯) জিহ্বায় ব্যথা
১০) চোয়ালে ব্যথা বা অবশতা
যদিও মুখে ঘা এবং কানে ব্যথা অন্য কোন অসুখেও দেখা দিতে পারে, তবুও উপরের লক্ষণগুলো একসাথে দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসককে দেখানো উচিত।   

মুখের ক্যান্সারে পরীক্ষা

ডাক্তার নিচের পরীক্ষাগুলোর একটি করে থাকেনঃ
১. X ray– মুখমন্ডল, বুকে বা ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়েছে নাকি সেটা দেখার জন্য
২. CT scan-  মুখ, ঠোঁট, গলা বা ফুসফুসের কোথাও কোন টিউমারের উপস্থিতি বোঝার জন্য
৩. MRI scan- ক্যান্সারের স্টেজ এবং মুখ ও গলার প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য
     
চিকিৎসা পদ্ধতি

মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন, অবস্থান, স্টেজ সবগুলোর উপর। প্রাথমিক স্টেজে ধরা পড়লে অনেক সময় খুব বেশি সময় লাগে না। যদিও সেক্ষেত্রে রোগীর বয়সও অনেক বড় একটি ফ্যাক্টর। আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট (National Cancer Institute)-এর গবেষণায় পাওয়া রিপোর্টে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ Oral Cancer রোগী পাঁচ বছর বা এরও বেশি সময় বেঁচে থাকেন। যতো দ্রুত ক্যান্সার ডায়াগনোসিস (Cancer diagnosis) করা যায়, চিকিৎসার পর রোগীর দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততো বেশি। এমনকি স্টেজ-১ এবং স্টেজ-২ এর রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার (৭০–৯০) শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিসংখ্যান থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন সময়মতো ক্যান্সার সনাক্ত হওয়া এবং এর চিকিৎসা কতোটা জরুরি। 
   
১. সার্জারী

চিকিৎসার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত সার্জারীর মাধ্যমে টিউমার বা কারসিনোজেনিক লিম্ফ নোড (Carcinogenic lymph nodes) অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি মুখ ও গলার আশপাশের টিস্যুও নেয়া হয় অনেক সময়।

২. রেডিয়েশন থেরাপি
রেডিয়েশন থেরাপি এই চিকিৎসার আরেকটি অপশন।সপ্তাহে ২দিন বা ৫ দিন করে ২ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত এই থেরাপি চলতে পারে। ক্যান্সার Advanced stage এর হলে রেডিয়েশন থেরাপির সাথে কেমোথেরাপিও দরকার হতে পারে।
রেডিয়েশন থেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। যেমনঃ
১) মুখে ঘা
২) মুখ শুকিয়ে আসা
৩) দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া
৪) মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
৫) বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া
৬) চামড়া এবং মুখের বিভিন্ন ইনফেকশন
৭) অবসাদ
৮) স্বাদ এবং গন্ধ নিতে অপরাগতা ইত্যাদি

৩. কেমোথেরাপি
কেমোথেরাপি হলো ঔষধের মাধ্যমে শরীরে ক্যান্সার কোষগুলো নষ্ট করে দেয়া। সেই ঔষধ মুখে খাওয়ারও হতে পারে অথবা ধমনীর মাধ্যমেও দেয়া যেতে পারে।এই প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর।     
কেমোথেরাপির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলোঃ
১) চুল পড়া
২) মুখ এবং মাড়িতে ব্যথা
৩) মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া
৪) রক্তশূন্যতা
৫) দুর্বলতা
৬) ক্ষুধামন্দা
৭) বমি বমি ভাব এবং বমি
৮) ডায়রিয়া ইত্যাদি

৪. পুষ্টিঃ
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সুস্থ খাদ্যাভাস সব অসুখ থেকেই আমাদের দূরে রাখে। ভিটামিন এবং মিনারেলস সমৃদ্ধ ফলমূল এবং শাক-সবজি মুখের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে। এছাড়াও মদ্যপান, ধূমপান এবং তামাক সেবন থেকে যতো দূরে থাকবেন এই অসুখ থেকে।

Source: oralcancernews.org

5
Food & Nutrition / দুধ কেনো খাবো ?
« on: February 09, 2020, 03:24:42 PM »
১. দুধ ক্যালসিয়ামের সব চাইতে ভালো উৎস। ছোট বাচ্চাদের দাঁতের জন্য দুধ খুবই উপকারী। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁতের গঠন ও বিকাশে উপকারী। দুধে প্রচুর পরিমাণে থাকা আমিষ‘ক্যাসিন’ দাঁতের এনামেলের উপর প্রতিরোধী পাতলা স্তর গড়ে তোলে। মুখের ভেতর, দাঁত এসিডের সংস্পর্শে আসলে,এটি তখন দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ক্ষয় রোধ করে। দন্তবিশেষজ্ঞরা বলেন যে, প্রতি বেলা খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে পানি বাদে দুধই হচ্ছে আরেকটি নিরাপদ পানীয়। কারণ দুধ,দাঁত ক্ষয়ের সবচে’ নাজুক অবস্থাতেও দাঁতের ক্ষয়সাধন হতে দেয় না। তাই, বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই দুধ পানের অভ্যাস করানো উচিত।

২. ছোটবেলা থেকে শুরু করে সারা জীবন দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে এটি আপনার হাড়কে করবে মজবুত আর রক্ষা করবে ‘ওসটিওপোরোসিস’ নামের হাড়ক্ষয়কারী রোগ থেকে। যদি দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিনের টেবিলে না থাকে, তবে আপনার শরীরে দেখা দিতে পারে ক্যালসিয়ামের অভাব। যা বিশেষ করে মহিলাদের আর বয়স্কদের জন্য চিন্তার বিষয়। ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে ‘ওসটিও আর্থাইটিস’ নামক হাড়ক্ষয়কারী রোগ ও হতে পারে। 
   
৩.শুধু ফল ও সবজি খেলে যে উপকার হয়, তারচেয়ে ফল, সবজি আর স্বল্প চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার নিয়মিত পরিমাণে গ্রহণ করলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে-দুগ্ধজাত খাবারে রয়েছে ‘উচ্চমানসম্পন্ন আমিষ’ যা মানবদেহের জন্য দরকারি। দুগ্ধজাত আমিষ শরীরে অ্যামাইনো অ্যাসিড সরবরাহের মাধ্যমে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কমতি থাকা ‘সেরিল’ ও সবজিজাত সাধারণ মানের আমিষের পুষ্টিমান বাড়িয়ে তোলে।
 
৪. এছাড়া বেশকিছু গবেষণায় দেখা গেছে-দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের সাথে হৃদরোগের লক্ষণসমূহ হ্রাসের একটি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। দেখা গেছে যারা স্বল্প পরিমাণে দুধ পান করেছিলেন তাদের চাইতে যারা বেশি পরিমাণে দুধ (বিশেষত সর বাদ দিয়ে) পান করেছিলেন তাদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা কম।
এক্ষেত্রে আরো অন্যান্য নিয়ামক থাকতে পারে, তবে স্বাস্থ্য ও অসুস্থতা সংক্রান্ত এক গবেষণায় দেখা গেছে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের সাথে হৃদরোগের ঝুঁকিহ্রাসের একটা সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ রক্তে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারে আর ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে পারে। অধিকতর বাজে কোলেস্টেরল আর কম পরিমাণ ভালো কোলেস্টেরল দুটোই আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

যারা স্বল্প পরিমাণে দুধ পান করেছিলেন তাদের চাইতে যারা বেশি পরিমাণে দুধ (বিশেষত সর বাদ দিয়ে) পান করেছিলেন তাদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা কম।

৫. স্থূলতা রোধে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে জানা গেছে যারা দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেন না তাদের চাইতে যারা দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেন তারা তুলনামূলক ঝরঝরে শরীরের অধিকারী হয়ে থাকেন। পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে ক্যালরি নিয়ন্ত্রিত সুষম খাবারের অংশ হিসেবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে ওজন হ্রাস ত্বরান্বিত হয়ে থাকে, বিশেষ করে তলপেট থেকে, যেখানটায় বেশি চর্বি  থাকা  স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

৬. নিয়মিত কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খেলে টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পাবেন। টাইপ-২ ডায়াবেটিস বলতে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও আপেক্ষিক ইনসুলিন ঘাটতির পরিপ্রেক্ষিতে রক্তে শর্করার মাত্রার আধিক্য বুঝায়। যা এখন শুধু বয়স্ক নয়, শিশু–কিশোরদেরও সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কম চর্বিযুক্ত , দুগ্ধজাত খাবারের এই উপকারিতার পেছনে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ অন্যান্য দরকারি পুষ্টিগুণের সমন্বিত অবদান আছে। এতে থাকা স্বল্প গ্লাইসেমিক সূচক রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৩৭,০০০ মধ্যবয়সী মহিলার মধ্যে জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যারা পর্যাপ্ত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম ছিল। ৩,০০০ অতিরিক্ত ওজনের বয়স্কদের মাঝে গবেষণায় দেখা গেছে পরিশোধিত চিনি ও শর্করা গ্রহণ না করে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ওজনের বয়স্কদের শরীরে টাইপ–২ ডায়াবেটিস জেঁকে বসাটা প্রতিরোধ করতে পারে।

৭. কর্মব্যস্ততার পর ক্লান্তি দূর করতে এক গ্লাস গরম দুধ আপনার জন্য খুবই উপকারী। গরম দুধ ক্লান্ত পেশি সতেজ করতে সাহায্য করে। এছাড়া, দুধ খেলে শরীরে মেলাটনিন ও ট্রাইপটোফ্যান হরমোন নিঃসৃত হয়, এই হরমোনগুলো ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে।

৮. দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা আপনার মাংশপেশির গঠনে অনেক বেশি সহায়তা করবে। দুধ মাংশপেশির আড়ষ্টতা দূর করতে সক্ষম।

৯.  দুধে রয়েছে পটাশিয়াম যা আপনার হৃদপিণ্ডের পেশির সুস্থতা বজায় রাখবে। তাছাড়া এর খনিজ উপাদান হৃদপিণ্ড সতেজ রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণও করতে পারে।

১০. আপনার চুলের জন্য ও দুধ খুব উপকারী। দুধে আছে প্রচুর ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা চুলের জন্য খুব উপকারী।

১১. প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করলে বাইরের আজেবাজে তেলের খাবারের চাহিদা কমে যায়। এতে করে যারা ওজন সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগেন তাদের ওজনও কমতে সহায়তয়া করে।

১২. দুধে রয়েছে নানা ধরণের ভিটামিন, মিনারেলস ও নানা পুষ্টিগুণ। প্রতিদিন দুধ পান করলে আপনার ত্বকে এর বেশ ভালো প্রভাব পড়বে। ত্বক হয় উঠবে নরম, কোমল ও মসৃণ। 

দুধের অন্য একটি বড় গুণ হচ্ছে এটি মানসিক চাপ দূর করতে সহায়তা করে। দুধ পানে আপনার ঘুমের উদ্রেক হবে, যার ফলে মস্তিষ্ক শিথিল হয়ে যাবে এবং মানসিক চাপ দূর হয়ে যাবে।

১৩. দুধের অন্য একটি বড় গুণ হচ্ছে এটি মানসিক চাপ দূর করতে সহায়তা করে। দুধ পানে আপনার ঘুমের উদ্রেক হবে, যার ফলে মস্তিষ্ক শিথিল হয়ে যাবে এবং মানসিক চাপ দূর হয়ে যাবে। সারাদিনের মানসিক চাপ দূর করে  শান্তির নিদ্রা চাইলে প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ পান করা উচিৎ।

১৪. অনেক ধরণের খাবার আমরা খাই যার ফলে আমাদের অ্যাসিডিটি হয় এবং বুক প্রচণ্ড জ্বালা পোড়া করে। এর সবচাইতে সহজ সমাধান হচ্ছে দুধ পান করা। দুধ পানে পাকস্থলী ঠাণ্ডা হয় এবং বুক জ্বালা পোড়ার সমস্যা দূর হয়।

১৫.  দুধে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন, মিনারেল রয়েছে যা আপনার দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্ত পরিষ্কারের পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালনও বৃদ্ধি করে।

১৬. বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে পর্যাপ্ত দুধ পান মলাশয় ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে কাজ করে । মলাশয়ের ক্যান্সারের  বিরুদ্ধে ক্যালসিয়াম ও দুধে স্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট ‘Conjugated Linoleic Acid (CLA)’ প্রতিরোধমূলক কাজ করে থাকে বলে বিবেচিত হয় । যারা নিয়মিত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে মলাশয়ের ক্যান্সার হবার হার কম থাকে।

১৭. নিয়মিত দুধ খেলে আর্টারিওস্ক্যারোসিসে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচা যেতে পারে। এ রোগ হলে আমাদের আর্টারিগুলোর দেয়াল পুরু, শক্ত ও অস্থিতিস্থাপক হয়ে যায়। এতে শরীরের রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

১৮. দুধ খেলে আপনার দৃষ্টিশক্তি বাড়বে।

১৯. কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকলে রাতে ঘুমানোর আগে প্রতিদিন এক গ্লাস গরম দুধ পান করুন।

২০.  সুস্থসবল মেধাবী নাগরিক হতে হলে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫০ মিলি দুধ খান এবং আপনার বাচ্চাকেও খেতে দিন। এটি আপনার বাচ্চার পড়াশোনায় মনোযোগ, চলাফেরার শক্তি আর খেলাধুলার উদ্দীপনা জোগাবে।


Source: Khaas Food

6
সন্তান জন্ম দেয়া একজন নারীর জীবনের অনেক কঠিন সময়। গর্ভবতী মায়ের সন্তান গর্ভে থাকাকালীন যেমন তার যত্ন নিতে হয় তেমনি সন্তান জন্মদানের পরে তার অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। স্বাভাবিক প্রসবের চেয়ে সিজারিয়ান করলে যত্ন নেয়া অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। গর্ভধারণের পরবর্তী ওজন এত সহজে কমে না। বিশেষ করে সিজারিয়ান হলে পেটের মেদ কমিয়ে পূর্বের অবস্থায় যেতে অনেক সময় লাগে। যেকোন ধরনের পেটের মেদ কমানো খুব সহজ নয় এবং সিজারিয়ান করলে অবস্থাটা আরো বেশি কঠিন হয়ে যায়। কারণ, তখন স্ট্যান্ডার্ড অ্যাবডোমিনাল এক্সারসাইজ করা যায় না। তথাপি বিকল্প উপায়ে সিজারিয়ান পরবর্তী পেটের মেদ কমানো যায়। আসুন জেনে নেই সিজারের পর বেল্ট ব্যবহার করে কতটুকু উপকার পাওয়া যায় ও এর সুবিধাসহ আরও কিছু উপায় সম্পর্কে!

সিজারের পর বেল্ট ব্যবহার মেদ কমানোর ভূমিকা

বেল্ট ব্যবহার কখন উপযুক্ত?

সিজারের পরে কোমরে বেল্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। বেল্ট ব্যবহারে কোনো সমস্যা নয়। সার্জারির পর হাঁচি-কাশি ও টয়লেট ব্যবহার করার সময় বেল্ট ব্যবহার ভালো। এতে হাঁটতে সুবিধা হবে। নরমাল ডেলিভারির পর একদিন পর থেকেই বেল্ট পরা যায়। তবে সিজারের পর সেলাই শুকানোর পর থেকেই বেল্ট পরা যায়। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা করে অন্তত ৪০দিন পর্যন্ত বেল্ট ব্যবহার করা উত্তম।

বেল্ট ব্যবহারের সুবিধা

১) এটি পেটের চারপাশে আরামদায়ক টাইট একটি বন্ধনি হিসেবে কাজ করে। হালকা প্রেশারের কারণে পেটের থলথলে ভাব কমে যায়।
২) সিজারের সময় পেটের কয়েক স্তরের মাংস পেশি কেটে যায়। বেল্ট পরার ফলে প্রেশারের কারণে সেই পেশি জোরা লাগার  পদ্ধতি ত্বরান্বিত হয়।
৩) বেল্ট ব্যবহার করলে নবজাতককে কোলে নিতে, দুধ খাওয়াতে, নাড়াচাড়া করতে শুবিধা হয় এবং ব্যথা কম হয়।
৪) সিজারের পর নিয়মিত বেল্ট ব্যবহার করলে প্রথম ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই জরায়ু পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।
৫) কোমর ব্যথায় উপশম হয়।

কখন বেল্ট পরা যাবে না?


১) সিজারের পর ইনফেকশন থাকলে বেল্ট ব্যবহার করা যাবে না।
২) অতিরিক্ত টাইট করে বেল্ট ব্যবহার করলে হার্নিয়া হতে পারে বা ইন্টার্নাল ব্লিডিং হতে পারে। সেক্ষেত্রে বেল্ট ব্যবহারে সাবধান হতে হবে।
৩) গরমের সময় বেশিক্ষন বেল্ট ব্যবহার করলে বা ঘাম হলে ইনফেকশন হতে পারে বা চুলকানি হতে পারে।
৪) প্রসবকালীন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে বেল্ট ব্যবহারে সাবধান হতে হবে। অনেকের হার্টে চাপ পড়ে বুক ধড়ফড় করতে পারে। সেক্ষেত্রে বেল্ট ব্যাবহার করা যাবে না।

সিজারের পর বেল্ট ব্যবহারে যেসকল বিষয় খেয়াল রাখবেন

১) সঠিক মাপের বেল্ট ব্যবহার করতে হবে।
২) বেল্ট এমনভাবে বাধঁবেন যেন তা খুব বেশি শক্ত বা খুব বেশি ঢিলেঢালা না হয়। সহনীয় হয় এমনভাবে বাধঁবেন।
৩) খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পর বেল্ট বাঁধবেন। ঘুম এবং গোসলের সময় বেল্ট পরবেন না।
৪) ইলাস্টিক ফাইবারের বেল্ট ব্যবহার করবেন। বেল্ট ভিজে গেলে ভেজা বেল্ট পরবেন না। এতে র্যা শ হতে পারে।

সিজারের পর মেদ কমাতে আরও যেসব উপায় আছে

১) ব্রেস্ট-ফিডিং
সিজারের পর মেদ কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো। বাচ্চাকে ৬ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এর সাহায্যে পেটের অনেক অতিরিক্ত মেদ কমে যাবে।

২) প্রচুর পানি পান করুন
পানি শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স রক্ষা করে। পানি অন্ত্র থেকে অতিরিক্ত মেদ বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এতে ক্ষুধা কম লাগবে ও পেট ভরা থাকবে।

৩) হালকা ব্যায়াম
স্বাভাবিক প্রসবের অন্তত দেড় মাস পর এবং সিজারিয়ান প্রসবের ২ মাস পর থেকে ব্যায়াম শুরু করতে হবে। তবে হালকা ব্যায়াম দিয়েই শুরু করা উচিত। পেটের ব্যায়ামগুলো আট-নয় মাস পর শুরু করা ভালো। ইয়োগা পেটের মেদ কমানোর ভালো উপায়। যেমন-প্রাণায়াম। এতে পেটের মাংসপেশি দৃঢ় হয়। ব্যায়াম করলেই দ্রুত ওজন কমে যাবে না। অন্তত ২ থেকে ৩ মাস নিয়মিত ব্যায়াম করলে ওজন আস্তে আস্তে কমতে শুরু করবে।

৪) খাবারে সতর্কতা
ভাত, মিষ্টিসহ শর্করা জাতীয় অন্যান্য খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না। বিশেষ করে যারা গর্ভধারণের আগে থেকেই একটু মুটিয়ে গিয়েছেন, তাদের এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। এছারাও প্রোটিন, ফল ও সবজি খেতে হবে। তবে ঘি, মাখন ও মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৫) পর্যাপ্ত ঘুমান
পর্যাপ্ত ঘুম ওজন কমাতে সহায়তা করে। কম ঘুমালে শরীরে ক্লান্তি থেকে যায়। এই ক্লান্তি কাটাতে অনেকে বেশি খেয়ে ফেলেন। যার কারণে ওজন বেড়ে যায়। সন্তান জন্মের পর মায়েরা ঘুমানোর সময় পান না। তারপরও মাকে খানিকটা সময় বের করে নিতে হবে ঘুমানোর জন্য।

সিজারিয়ান অপারেশনের পরে কিছু দিন ভারী ব্যায়াম করতে পারবেন না বলে আপনি আপনার পূর্বের আকার ফিরে পাবেন না এমন ভেবে হতাশ হবেন না। ধৈর্য ধারণ করুন ও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিন এবং চেষ্টা করুন।

Source: Shajgoj.com

7
গর্ভবতী মায়েদের টিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তা আমরা সবাই জানি। টিকা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষতিকর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। শুধু মা নিজেই নন, গর্ভাবস্থায় টিকা নিলে আপনি এবং আপনার সন্তান উভয়েই ক্ষতিকর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন। এছাড়াও আপনার সন্তানটি জন্মের কয়েকমাস পরেও তার টিকা শুরু করার আগ পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনার গর্ভের সন্তানকে গুরুতর অসুখ থেকে রক্ষা করবে।

গর্ভবতী মায়ের টিকা নেয়ার গুরুত্ব

মায়ের অসুস্থতা শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যেমন গর্ভবতী মায়েদের রুবেলার ইনফেকশন হলে সন্তান জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে, এমনকি জন্মের পূর্বেও সন্তানের মৃত্যু হতে পারে। রুবেলা আক্রান্ত মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর এই ত্রুটি স্থায়ী। তাই পরবর্তী সময়ে শিশুটির দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। গর্ভবতী হওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার রুবেলা প্রতিরোধের ক্ষমতা আছে কি না। আমাদের দেশে অধিকাংশ নারীই নয় মাস বয়সেই হামের সঙ্গে রুবেলার টিকার প্রথম ডোজ নিয়ে থাকেন, আর দ্বিতীয় ডোজটি নিয়ে থাকেন ১৫ বছর বয়সে। যদি আপনার রুবেলা টিকা না নেওয়া থাকে, তাহলে দ্রুত টিকাটি নিয়ে নিন।  আবার কিছু রোগ আছে, যা মায়ের গর্ভ থেকেই শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এইডস, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-এ এমন কিছু রোগ। সংক্রামক রোগ
প্রতিরোধে টিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনেক সংক্রামক রোগই টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমাদের দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের টিকাদানের ব্যবস্থা আছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আমাদের দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী যাদের বয়স ১৫ থকে ৪৯ বছর, তাদের জন্য ধনুষ্টংকার ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিটি ও এমআর টিকা দেওয়া হয়।

গর্ভবতী মায়ের ৫ ধরনের টিকা


১) ফ্লু এর টিকা
গর্ভাবস্থার মধ্যবর্তী সময়ে ফ্লুতে আক্রান্ত হলে তীব্র উপসর্গ বা নিউমোনিয়ার মতো জটিল অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। মধ্যম মানের ফ্লুতে আক্রান্ত হলেও জ্বর, মাথা ব্যথা, পেশীর ব্যথা, গলা ব্যথা ও কাশির মতো যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গগুলো দেখা দেয়। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (CCD) ফ্লু এর ঋতুতে অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মার্চের সময়টাতে যে সকল নারীরা গর্ভবতী হবেন তাদেরকে ফ্লু শট অর্থাৎ ইনজেকশন নেয়ার পরামর্শ দেয়। ফ্লু এর টিকা মৃত ভাইরাস দিয়ে তৈরি বলে মা ও গর্ভজাত সন্তান উভয়ের জন্যই নিরাপদ। কিন্তু ফ্লুমিস্ট এক ধরনের ন্যাজাল স্প্রে ভ্যাক্সিন যা জীবন্ত ভাইরাস দিয়ে তৈরি হয় বলে এটি অবশ্যই এড়িয়ে যেতে হবে প্রেগনেন্ট নারীদের।

২) টিটেনাস/ডিপথেরিয়া/পারটুসিস টিকা (Tdap)

টিটেনাস বা ডিপথেরিয়া বা পারটুসিস টিকা যে কোন সময়ই নেয়া যায়। তবে গর্ভবস্থায় ২৭-৩৬ মাসের মধ্যে নেয়াটাই উপযুক্ত সময়। এই টিকা টক্সয়েড ধরনের বলে গর্ভাবস্থায় নেয়ার জন্য নিরাপদ। টিটেনাসকে লক’জ ও বলা হয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয় এবং পেশীতে বেদনাদায়ক খিঁচুনি হয়। টিটেনাস সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া মাটিতে এবং পশুর বর্জ্যে পাওয়া যায়। মানুষের শরীরের ত্বকের কোন স্থানে কেটে গেলে এটি রক্তস্রোতে প্রবেশ করতে পারে। আপনার শরীরের কোথাও গভীর ও ময়লা ক্ষতের সৃষ্টি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। গর্ভাবস্থায় টিটেনাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ডিপথেরিয়া শ্বসনতন্ত্রের সংক্রমণজনিত রোগ। এর ফলে শ্বাসকষ্ট হওয়া, প্যারালাইসিস হওয়া, কোমায় চলে যাওয়া এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আর পারটুসিস ব্যাকটেরিয়া ঘটিত চূড়ান্ত রকমের সংক্রামক রোগ। এর ফলে ক্রমাগত ও গভীর কাশি হয় এবং উচ্চ শব্দ হয় বলে একে ‘হুপিংকাশি’ ও বলে।

৩) হেপাটাইটিস বি টিকা
CCD-এর মতে সকল গর্ভবতী নারীরই হেপাটাইটিস বি শনাক্তকরণের পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ অনেক সময় এই রোগটি তার উপস্থিতির জানান দেয় না। গর্ভাবস্থায় হেপাটাইটিস বি এর টিকা নেয়া নিরাপদ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত সংক্রামক রোগ। এর ফলে যকৃতের প্রদাহ, বমি বমি  ভাব, ক্লান্তি এবং জন্ডিস দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী লিভার ডিজিজ, লিভার ক্যান্সার এবং মৃত্যুও হতে পারে। গর্ভবতী নারী যদি হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হোন তাহলে ডেলিভারির সময় এই ইনফেকশন নবজাতকের মধ্যে ছড়াতে পারে। সঠিকভাবে চিকিৎসা করা না হলে শিশুর পূর্ণ বয়স্ক অবস্থায় মারাত্মক যকৃতের রোগ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

৪) হেপাটাইটিস এ টিকা
হেপাটাইটিস এ এর টিকা গর্ভবতী মাকে যকৃতের এমন রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, যা সাধারণত ছড়ায় সংক্রমিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে। জ্বর, ক্লান্তি ও বমি বমি ভাবের মত লক্ষণগুলো দেখা দেয় এই রোগে আক্রান্ত হলে। এটি হেপাটাইটিস বি এর মতো মারাত্মক কোন রোগ নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অসুস্থতা গর্ভজাত সন্তানের উপর কোন প্রভাব ফেলে না। বিরল ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ প্রিম্যাচ্যুর লেবারের সৃষ্টি করতে পারে এবং নবজাতকের ইনফেকশনও হতে পারে।

৫) নিউমোকক্কাল ভ্যাক্সিন
আপনার যদি দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগ যেমন- ডায়াবেটিস অথবা কিডনি রোগ থাকে তাহলে আপনার চিকিৎসক আপনাকে নিউমোকক্কাল ভ্যাক্সিন নেয়ার পরামর্শ দেবেন। যা কয়েক ধরনের নিউমোনিয়া থেকে সুরক্ষা দেবে। গর্ভজাত সন্তানের ক্ষতির বিষয়টি এখনও অজানা, তবে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে ঝুঁকি কম।

গর্ভবতী মায়েদের টিটি টিকা দেয়ার নিয়ম


টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) থেকে রক্ষ পাওয়ার জন্য টিটি টিকা নিতে হয়। হবু মায়েদের টিটি টিকা নিতে হবে যেন বাচ্চার ধনুষ্টংকার না হয়। যদি আগে কোনো টিকা নেওয়া না থাকে, তবে সবগুলোই দিতে হবে। শিশুদের যে পেন্টা ভ্যালেন্ট (pentavalent vaccines) টিকা দেয়া হয়, তাতে ধনুষ্টংকার প্রতিরোধী টিকা থাকে। কিন্তু এই টিকা নবজাতককে সুরক্ষা দিতে পারে না বিধায় সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচির আওতায় আমাদের দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী—যাদের বয়স ১৫ থকে ৪৯ বছর, তাদের জন্য ধনুষ্টংকার ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিটি ও এমআর টিকা দেয়া হয়। তবে টিটেনাসের ৫টি টিকার ডোজ সম্পন্ন থাকলে আর গর্ভাবস্থায় এই টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই। আর কেউ যদি কোনো টিকা না নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ৫ মাসের পর ১ মাসের ব্যবধানে পর পর দুটি টিটি টিকা দিয়ে নিতে হবে। আর যদি পূর্বে দুই ডোজ টিকা নেয়া থাকে তাহলে প্রতি গর্ভাবস্থায় মাত্র একটি বুষ্টার ডোজ (booster dose) নিতে হবে।
মাকে দেয়া এই টিকা মা ও বাচ্চা উভয়েরই ধনুষ্টংকার রোগের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। প্রসবকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতায় অসতর্কতা এবং অপরিষ্কার ছুরি, ব্লেড বা কাঁচি ব্যবহার করলে (বাচ্চার নাভী কাটার সময়) অথবা নাভীর গোড়ায় নোংরা কিছু লাগিয়ে দিলে নবজাতকের ধনুষ্টংকার রোগ হয়।

টিটি টিকা সূর্যের হাসি চিহ্নিত ক্লিনিক, মেরিস্টোপস ক্লিনিক, বড় হাসপাতাল, সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেয়া হয়।

আপনি নিজে গর্ভবতী হলে বা আপনার পরিবার ও বন্ধুদের কেউ গর্ভবতী হলে এই টিকাগুলো সময়মতো যাতে নেয়া হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এর ফলে অনাগত শিশু ও মা উভয়েই নিরাপদ থাকবেন। যেকোন ভ্যাক্সিন নেবার আগে অবশ্যই আপনার গাইনী ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন এবং ভবিষ্যতে যাতে ট্র্যাক করা যায় এজন্য কবে কী ভ্যাক্সিন দিচ্ছেন তার চার্ট সংরক্ষণ করুন।

Source: Immunization.info

8
ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায়, ফেসবুকে এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সময়ে সবথেকে বেশি আলোচ্য বিষয় হচ্ছে “করোনা ভাইরাস”। আপনারা অনেকেই জানেন যে চীনের উহান প্রদেশ থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। সম্প্রতি যারা চীন ভ্রমণ করে এসেছেন তাদের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাসটি। এটা অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে এই মারণ ভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন খবর পাওয়া যায় নি। কিন্তু এখন থেকেই আমাদের সচেতন থাকা উচিত যাতে এই ভাইরাস থেকে আমরা নিরাপদে থাকতে পারি। চলুন তাহলে জেনে নেই, করোনা ভাইরাস কী, কিভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরের লক্ষণসমূহ ও সচেতন থাকার উপায় সম্পর্কে।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য

করোনা ভাইরাস কী?

হিউম্যান করোনা ভাইরাস এক ধরনের জুনোটিক (Zoonotic) রোগ এবং এই সংক্রমণটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ পশু-পাখি থেকে মানুষের শরীরে ট্র্যান্সফার হয়। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এই ভাইরাসটি ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘করোনা’। বিজ্ঞানীদের মতে, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যে মিউটেট (muted) করছে অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে।
ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা প্রায় ছয়টি করোনা ভাইরাস শনাক্ত করেছেন, যা মানুষের শরীরে হালকা থেকে মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে। যেমন- আলফা করোনা ভাইরাস (NL63 এবং 229E), বিটা করোনা ভাইরাস (HKU1 ও OC43) এবং বাকি দুটি সার্স ও মার্স তাদের প্রাণঘাতী লক্ষণগুলোর জন্য পরিচিত।



কীভাবে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস?

করোনা ভাইরাসের প্রথম খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল ১৯৬০ সালে একজন রোগীর মধ্যে। ২০১৯ এর শেষে আবার মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই রোগের সূচনা হয়। ৩১ ডিসেম্বর এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। আর তারপর থেকেই বিশ্ববাসীর টনক নড়ে। নতুন করে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে ঠিক কীভাবে এর সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভবত কোনো প্রাণী এই ভাইরাসের উৎস ছিল। উহান শহরের বাজারে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী বেচাকেনা হয়। বাদুড়, সাপ কোনোকিছুই যেন বাদ রাখেনি তারা! প্রাণীদেহ থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে। সংক্রামিত ব্যক্তি মুখ না ঢেকে খোলা বাতাসে হাঁচি বা কাশি দিলে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যান্য কারণগুলো হচ্ছে সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে হ্যান্ডশেক, সংক্রামিত কোনো বস্তুর সাথে নাক বা মুখ স্পর্শ করা ইত্যাদি।

মানবদেহে লক্ষণসমূহ

অন্যান্য শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত রোগের লক্ষণের সাথে করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলোর মিল আছে। যেমন আক্রান্ত ব্যক্তির নাক দিয়ে সর্দি ঝরে, হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা ও জ্বর হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সর্দি-কাশির সাথে করোনা ভাইরাসের পার্থক্য বুঝতে পারে না। এসব লক্ষণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।

কিভাবে সচেতন থাকতে পারি?

বাংলাদেশে যাতে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করার মাধ্যমে সব যাত্রীদেরকে পরীক্ষা করে বিমানবন্দর ত্যাগ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে চীন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদেরও সবকরম পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং কিছুদিনের জন্য আলাদা স্থানে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে কেউ জ্বর নিয়ে দেশে ঢুকছে কিনা তা শনাক্ত করতে বিমানবন্দরসহ দেশের প্রবেশ পথে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে আমাদেরকেও সাবধান হতে হবে। চলুন জেনে নেই সচেতন থাকার উপায়গুলো সম্পর্কে।
১) সর্দি, জ্বর আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
২) সুরক্ষিত থাকতে অবশ্যই ফেইসমাস্ক ব্যবহার করুন।
৩) হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে রাখুন।
৪) গণপরিবহনে সাবধানে চলাফেরা করুন।
৫) প্রচুর ফলের রস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৬) ডিম, মাছ কিংবা মাংস রান্নার সময় ভালো করে সেদ্ধ করুন।
৭) নিয়মিত থাকার ঘর এবং কাজের জায়গা পরিষ্কার করুন।
৮) বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।
৯) ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খেতে পারেন যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

তাহলে, জেনে নিলেন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কার্যকরী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ চলছে যাতে ভাইরাসকে নির্মূল করা যায়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. গ্যাব্রিয়েল লিউং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলছেন, ‘আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মাস্ক পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও অন্যের সংস্পর্শ এড়াতে মাস্ক পরুন’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে মানুষকে হাত ভালোভাবে ধোয়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। আপাতত প্রতিকার হিসেবে এই সতর্কতাগুলো মেনে চললেই হবে। নিজে সচেতন হোন ও অপরকে সচেতন করুন।

Source: Express.co.uk, Wikipedia+Shajgoj

9
Food Habit / HDL Cholesterol Foods To Include In Your Diet
« on: January 25, 2020, 02:55:22 PM »
HDL Cholesterol Foods To Include In Your Diet



Source: Health+

10
Primary Care / Best Health Tips for Cough and Cold
« on: January 25, 2020, 02:48:21 PM »
Best Health Tips for Cough and Cold



Source: Health+

11
Patient Education / How to Spot a Vitamin D Deficiency
« on: January 25, 2020, 02:38:39 PM »
How to Spot a Vitamin D Deficiency



Source: Health+

12
Ophthalmology / These Foods Actually Improve your Eyesight
« on: January 25, 2020, 02:14:11 PM »
These Foods Actually Improve your Eyesight



Source: Health+

13
Food Habit / Health Benefits of Drinking Water in Empty Stomach
« on: January 25, 2020, 02:11:52 PM »
Health Benefits of Drinking Water in Empty Stomach



Source: Health+

14
Food & Nutrition / Foods That Speed up your Metabolism Naturally
« on: January 25, 2020, 02:09:54 PM »
Foods That Speed up your Metabolism Naturally



Source: Health+

15
ENT / Effective Tips for Ear Health
« on: January 25, 2020, 02:06:59 PM »
Effective Tips for Ear Health



Source: Health+

Pages: [1] 2 3 ... 30