Show Posts

This section allows you to view all posts made by this member. Note that you can only see posts made in areas you currently have access to.


Topics - LamiyaJannat

Pages: [1] 2 3 ... 16
1

অনিদ্রা দূর করার উপায়


•   মধু
মধুর হাজারো উপকারিতার মধ্যে একটা অনেক বড় উপকারিতা হচ্ছে এটা অনিদ্রা দূর করতে অনেক সহায়তা করে। ঘুমাতে যাওয়ার আধা ঘন্টা আগে হার্বাল চা বা হালকা গরম দুধের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। মধু স্নায়ু শীতল করতে সাহায্য করে। ফলে রাতে ঘুম হয় অনেক ভালো, অনিদ্রা দূরীভূত হয়।

•   বাদাম
অনিদ্রা দূর করার জন্য আরেকটা কার্যকরী খাবার হচ্ছে বাদাম। শরীরে সেরোটোনিন হরমোনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে বাদাম। এই হরমোন মস্তিষ্ককে সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। বাদামেও রয়েছে ট্রাইপটোফ্যান এবং ম্যাগনেসিয়াম। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১০ থেকে ১৫টি বাদাম ভালো ঘুম হতে সাহায্য করবে।

•   দই
দুগ্ধজাত খাবার হিসেবে দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। এই উপাদান ঘুমে সাহায্যকারী ট্রাইটোফ্যান এবং মেলাটোনিন হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে দই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে এই দই অবশ্যই খাঁটি হতে হবে। খাঁটি গরুর দুধ দিয়ে বানানো দই খেলেই অনিদ্রানাশক উপকারিতাটা পাবেন।

•   ভেষজ চা
অনেকে মনে করেন লাল চা বা ‘গ্রিন টি’-এর মতো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ ভেষজ চা গুলো রাতে ঘুমে ব্যঘাত ঘটাতে পারে। কিন্তু আসলে তা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে ক্যামোমাইল সমৃদ্ধ ভেষজ চা দুশ্চিন্তা কমায় এবং অনিদ্রার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ অনিদ্রা দূর করতে গ্রিন টি অনেক আদর্শ ভূমিকা পালন করে।

•   অর্গানিক ডিম
অর্গানিক বা ভেজালমুক্ত ডিমে রয়েছে ট্রাইটোফ্যান নামক এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড। এই প্রকারের অ্যামাইনো অ্যাসিড ঘুম বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। তাই ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে বা রাতের খাবারের সময় যদি অর্গানিক ডিম রাখা যায়, তবে তা অনিদ্রা রোধ করতে অনেক সাহায্য করে। তবে এ জন্য অবশ্যই সঠিক অর্গানিক ডিমের সন্ধান পেয়ে সেই অর্গানিক ডিম খেতে হবে।

•   আঙ্গুর–আপেল
আঙ্গুর ফল অনীদ্রা দূরীকরণে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এটা শরীরে প্রচুর পরিমাণে মেলাটোনিন হরমোন তৈরি করতে সাহায্য করে। আর এই হরমোন ঘুমে সাহায্য করে। অন্যান্য ফলের মধ্যে আপেল, পিচ, কলা এসব ফল অনিদ্রা দূর করে।

•   কলা
কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। আর মানুষের শরীরে পটাশিয়ামের উপস্থিতি, রাতে ঘুম কতটা গাঢ় হবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া কলার ট্রাইপটোফ্যান এবং ম্যাগনেসিয়াম রাতে ঘুম হতে সাহায্য করে। তাই ঘুমের ওষুধ বাদ দিয়ে রাতে নিয়মিত কলা খেয়ে বিছানায় যেতে পারেন। ঘুম হবে, নিশ্চিত!

•   শাকসবজি
নিয়মিত রাতের খাবারে শাকসবজি খেলে অনিদ্রা জনিত কোন সমস্যাই থাকে না আর। তাই রাতের খাবারে ভারী খাবার পরিহার করে শাকসবজি জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন, শান্তির ঘুম ঘুমান!

Source: Khaas Food

2
Health Benefits of Licorice

Licorice, an anti-inflammatory and antioxidant herb, can treat peptic ulcers, oral and dental infections, and even upper respiratory tract infections. It can also protect your liver, heart, and brain, prevent atherosclerosis, lower cholesterol, reduce hot flashes, and ease diabetes symptoms.

1. Fights Upper Respiratory Tract Infections
2. Prevents Tooth Decay and Fights Oral Infections
3. Helps Memory and Learning
4. Eases Stress and Revitalizes the Brain
5. Controls Diabetes Symptoms of Excessive Thirst and Hunger
6. Reduces Menopausal Hot Flashes
7. Counters Skin Problems and Improves Skin Tone
8. Tackles Peptic Ulcers
9. Keeps Your Heart in Good Shape
10. Protects the Liver



Source: dailyhunt

3
মেথি সবাই চেনেন। মেথিকে মসলা, পথ্য, খাবার – তিনটিই বলা যায়। মেথি গুড়ার স্বাদ খানিকটা তিতা।

মেথিতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি। তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব উপকারী।

মেথিতে রয়েছে তারূণ্য ধরে রাখার আশ্চর্য এক ক্ষমতা। যারা নিয়মিত মেথি খান, তাদের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি অত্যন্ত ধীর হয়।

লেবু ও মধুর সাথে এক চা-চামচ মেথি মিশিয়ে খেলে সর্দি কাশি পালাবে। এছাড়া মেথিতে বিদ্যমান মিউকিল্যাগ গলাব্যথা সারাতে সাহায্য করে।

রক্তে চিনি কমানোর বিস্ময়কর উপাদান হিসেবে মেথি বিবেচিত হয়। সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে অথবা মেথি ভেজানো পানি খেলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়।

সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে কৃমি ও নানান রোগ দূর হয়।

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।

খাবারে মেথির স্বাস্থ্যসম্মত উপস্থিতি ডায়াবেটিক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
 
মেথি গ্যাস্ট্রিক ও বদহজমের মহৌষধ হিসেবে পরিচিত।

মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধির জন্য কালিজিরার মতো মেথি পিষে খেলে উপকার হয়। তবে মেথি ভাজলে এর গুণাগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই কড়া রোদে মেথি শুকিয়ে তার ভর্তা খাওয়া যেতে পারে।

মাসিকের ব্যথায় কাঁচা মেথি চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

নিয়মিত নারকেল তেলের সাথে মেথি ব্যবহারে চুলের গোড়া  শক্ত ও মজবুত হয় এবং চুল পড়া রোধ করে।

মেথি গরমজনিত ত্বকের অসুখে অত্যন্ত উপকারী। ত্বকে ঘা, ফোড়া, ইরিটেশন ইত্যাদি দূরীকরণে মেথির জুড়ি নেই। মেছতায় মেথি বাটা নিয়মিত ব্যবহার করলে তা সহজে ছড়িয়ে পড়ে না এবং ধীরে ধীরে কমে যায়।



Source: Khaas Food

4
প্রতি ৬টি মৃত্যুর ১টির কারণ ক্যান্সার। তাই ক্যান্সারকে বলা হয় ‘মরণব্যাধি’। তবে প্রাকৃতিকভাবে কিছু খাবার আছে যা এই মরণব্যাধিকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম। শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দিন যত যাচ্ছে ততই রোগের প্রতিকারের নিত্যনতুন গবেষণা ও চিকিৎসায় পরিবর্তন আসছে। চিকিৎসকরাও বর্তমানে পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমেই বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের কথা বলছেন। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই খাবারগুলো রাখা হলে মরণব্যাধি ক্যান্সারকে দূরে রাখা সম্ভব।

আজকে আমরা ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে এমনই কিছু খাবারের নাম জেনে নেব।

রসুন: অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যারা রসুন খান তাদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। এটি ক্যান্সারের জীবাণু প্রতিরোধ করে। এমনকি কিছু ক্যান্সারের জীবাণু ভেঙ্গে ফেলে।

গ্রিন টি: গ্রিন টি বা সবুজ চা ক্যান্সার প্রতিরোধে অনেক উপকারী। এই সবুজ চায়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যাটচীন নামক উপাদান থাকে, যা বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সক্ষম। গবেষণায় আরো দেখা গেছে গ্রিন টি টিউমার হওয়া প্রতিরোধ করে থাকে। সাধারণ চায়ের চেয়ে গ্রিন টি বেশি উপকারী। তাই চা না খেয়ে গ্রিন টি বা সবুজ চা খেতে পারেন।

টমেটো:
টমেটো এক প্রকারের ফল, আবার অনেকে একে সবজি বলে কারণ এতে বীজ আছে তাই। কিন্তু এতে মসলাদার সুগন্ধের জন্য সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত হয় বেশি। টমেটো ফল না সবজি সেটা কোন বিষয় না। টমেটো হচ্ছে “নিউট্রিশনাল পাওয়ার হাউজ” যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। টমেটোতে লাইকোপেন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা হৃদরোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে থাকে। টমেটোতে ভিটামিন এ, সি, এবং ই থাকে যা কিনা ক্যান্সার বান্ধব মৌলের শত্রু। টমেটোর রস ক্ষতিকর ডিএনএ এর কোষ নষ্ট করে ফেলে।

বাদাম: বাদামে প্রচুর পুষ্টিগুণ থাকে। আর হৃদপিণ্ডের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাট থাকে বাদামের মধ্যে। যদি আপনি ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কযুক্ত ক্ষুধাহীনতায় ভুগে থাকেন অথবা ওজন কমাতে চান তাহলে বাদাম সবচেয়ে ভাল, কারণ অল্প পরিমাণ বাদাম আপনাকে অনেক পরিমাণ পুষ্টি প্রদানে সক্ষম। বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকার পাশাপাশি পটাশিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন ই থাকে। এছাড়াও কিছু প্রোটিন ও ফাইবারও থাকে। আখরোট প্রদাহ রোধী ওমেগা৩ ফ্যাটি এসিডের চমৎকার একটি উৎস। কিছু গবেষণায় জানা গেছে যে, সাপ্লিমেন্টের চেয়ে খাদ্য থেকে এই পুষ্টি উপাদানটি শোষণ করা ভাল। বাদামে সেলেনিয়াম নামক অ্যান্টি ক্যান্সার উপাদান বিদ্যমান থাকার কারণে কোলন, ফুসফুস, যকৃত, এবং অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া বাদামের মাখনও আপনার শরীরকে ক্যান্সার থেকে দূরে রাখতে পারবে।

হলুদ: আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি এক গবেষণায় বলা হয়েছে হলুদে ‘কারকিউমিন’ নামক উপাদান আছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। এছাড়া এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দেহকে ক্যান্সার প্রতিরোধী করে তুলে। প্রতিদিন কাঁচা হলুদের দুধ, বা মাছ ও মাংসের মত তরকারিতে প্রয়োজন মত হলুদ ব্যবহার করতে পারেন। হলুদ ক্যান্সার কোষকে শরীরের ভাল কোষকে নষ্ট করতে বাধা দেয় এবং ক্যান্সার কোষকে নিস্তেজ করতে সাহায্য করে। সুতরাং নিয়মিত খাদ্যের মধ্যে হলুদ খেতে চেষ্টা করবেন।

মাশরুম: আধুনিক খাবার হিসেবে বাংলাদেশে মাশরুমের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটছে। যে-সকল ব্যক্তি মাশরুম সংগ্রহ করে খায়, তারা মাইকোফেজিস্টস বা ‘মাশরুম খাদক’ হিসেবে পরিচিত। মাশরুম খোঁজার প্রক্রিয়াকে সাধারণত মাশরুমিং বা মাশরুম শিকারি নাম বলা হয়। মাশরুমে রয়েছে  ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান। এছাড়াও রয়েছে পুষ্টি ও ভেষজগুণ যা রোধ করবে ক্যান্সার।

সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় ও কার্যক্ষম রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হৃদযন্ত্রের রিদমকে দ্রুততর করে, ধমনীতে চর্বি জমার মাত্রাকে কমিয়ে দেয়, ধমনীতে পুরনো প্রদাহকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। গবেষকেরা জানিয়েছেন হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রতি সপ্তাহে একজন মানুষের ১৭৫০ মিলিগ্রাম ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দরকার পড়ে। আর এই সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বিদ্যমান থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট এসিড যা প্রদাহ প্রতিরোধ করে ফলে দেহের ক্যান্সারের রূপ নিতে বাধা দেয়।

খেজুর: অবাক হলেও সত্য খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এক গবেষণায় দেখা যায় খেজুর পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আর যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যান্সারের ঝুঁকিটা কমে যায় অনেকখানি।

এছাড়াও দই,  বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, গাজর, ডালিম, বেদানা, তরমুজ, সবুজ শাক ইত্যাদি খাবারেরও ক্যান্সার প্রতিরোধী কার্যকারীতা আছে। তাই আমাদের সকলের উচিত নিয়মিত এই খাবারগুলো খাদ্য তালিকায় রাখা।



Source: Khaas Food

5
আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের ব্যথার কারণে কষ্ট পেয়ে থাকি। বিশেষ করে অনেক সময় ধরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকার জন্য, নাহলে লম্বা পথ হাঁটার জন্য। অনেকে arthritis এর ব্যথায় ভোগেন কেউবা ব্যায়ামের ফলে পেশীতে টান লেগে সেই ব্যথায় কষ্ট পান। এই ব্যথা কমাতে আমরা কত ধরণের ওষুধ যে খাই তার ঠিক নেই। কিন্ুই এত ওষুধ খাওয়া কি ঠিক? এর চাইতে ভালো হয় যদি আমরা খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করে ফেলি। নীচে এমন ৫টি খাদ্য সম্পর্কে বলা হলো যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

০১. চেরী
চেরীতে anthocyanins থাকে যা বিভিন্ন anti-inflammatory drug যেমন- aspirin এর মতোই ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। International Society of Sports Nutrition এর মতে অনেক সময় ধরে দৌড়ানোর আগে চেরীর জুস খেয়ে নিলে দৌড়ানোর পর পায়ে কম ব্যথা থাকে।

০২. আদা
আদাতে বিভিন্ন antioxidant রয়েছে যেমন – shogaols, zingerones and gingerols। এগুলো সবই হলো anti-inflammatory. নিয়মিত আদা খেলে বিভিন্ন ব্যায়ামের পরে শরীরে ব্যাথা অনেক কম হয় বা বেশিক্ষণ থাকে না। Muscle injury হয়েছে ব্যায়ামের সময় এমন কয়েকজনের উপর এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে তাদের মধ্যে যারা নিয়মিত আধা চামচ করে রান্না করা অথবা কাঁচা আদা খান তাদের ব্যথা ২৪ ঘন্টার মধ্যে কমে গিয়েছে আর যারা নিয়মিত আদা খান না তাদের ব্যথা ২৪ ঘন্টার মধ্যে কমেনি। এমনকি ব্যথা শুরু হওয়ার পরে আদা খেয়েও তাদের আর কোন লাভ হয়নি। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন আদা খাওয়া উচিত।

০৩. মরিচ
খুব ঝাল মরিচ খেয়ে হয়ত আপনার মুখে জ্বালা পোড়া হতে পারে কিন্তু এই মরিচ-ই আপনার শরীরের অন্যান্য জায়গার ব্যথা কমিয়ে দিতে পারে। মরিচে অনেক বেশি পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা আপনার শরীরের ক্ষতিগ্রস্থ tissue, যেগুলোর কারণে ব্যথা হয় তা repair করে।

০৪. Salmon বা অন্য কোন সামুদ্রিক মাছ
Salmon এ ওমেগা-৩ এবং প্রচুর ভিটামিন ডি আছে ।যা arthritis এর হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে এবং শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট এর ব্যথার হাত থেকে আপনাকে মুক্তি দিবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ওমেগা-৩ যেসব খাদ্যে রয়েছে সেগুলো গ্রহণ করলে arthritis, dysmenorrhea (painful menstrual cramps), inflammatory bowel disease এবং neuropathy (nerve pain) থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাই ওমেগা৩ এবং ভিটামিন ডি আছে এমন খাদ্য গ্রহণ করুন।

০৫. হলুদ
হলুদে curcumin থাকে যা ব্যথা কমাতে বা ব্যথা তৈরী হওয়া থেকে আপনাকে রক্ষা করবে। বিশেষ করে post surgical pain কমাতে হলুদ সাহায্য করে।


6
যে সকল ফল প্রাকৃতিক ভাবে মেদ কমাতে সাহায্য করে তার মধ্যে আপেল, ব্লু-বেরি, তরমুজ, কমলা,আঙ্গুর, লেবু, পেঁপে, মাল্টা এবং টমেটো  অন্যতম। এ সবগুলোই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যাদের আছে মেদ কমানোর ক্ষমতা।

আপেলে রয়েছে পেক্টিন ( pectin) নামক উপাদান যা কোষকে চর্বি বা মেদ শোষণে বাঁধা দেয়।বেশীরভাগ ফলের মত আপেলও একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা আমাদের শরীরে মেটাবলিক সিন্ড্রম (metabolic syndrome) নামক রোগ প্রতিরোধ করে।  সাধারণত মেটাবলিক সিন্ড্রম রোগটি শরীরের অতিরিক্ত মেদের  কারণে হয়ে থাকে।

অনেক ধরণের সবজিরমশলার মধ্যেও আছে মেদ কমানোর গুণাগুণ। যেমন- অ্যাস্পারাগাস, বিটমুল, ব্রকলি, বাধাকপি, গাজর, সীম, সয়াবিন  । আর মসলার মধ্যে আছে মরিচ, কারিপাতা, রসুন, এলাচ ইত্যাদি।

যেসব খাবারে মরিচ থাকে সেসব খাবার মেদ কমাতে সাহায্য করে। মরিচে রয়েছে ক্যাপ্সাইসিন (capsaicin) যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে। ক্যাপ্সাইসিন একটি থার্মোজেনিক এজেন্ট রয়েছে যা তাপ তৈরিতে সাহায্য করে। এটি খাবার গ্রহণের ২০ মিনিট পর থেকেই শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি ভাঙতে সাহায্য করে।

রসুনে আছে এলিসিন (allicin) যা কোস্ট্রল কমাতে সাহায্য করে। এলাচও একটি থার্মোজেনিক এজেন্ট যা মেদকে ভেঙে দেয়।

দুগ্ধজাত সামগ্রীর মধ্যে দুধ, টকদই অতিরিক্ত চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে। আমিষ ও আঁশযুক্ত খাবারে পেটের মেদ কমে। আমিষ জাতীয় খাবার যেমন ডাল, বিনস ইত্যাদি খাবার হজম করতে আমাদের শরীরের বেশী শক্তি ব্যয় হয় তাই যত খুশি তত কম ক্যালোরিযুক্ত বিনস খাওয়া যেতে পারে।

গ্রিন টি হজমে সাহায্য করার সাথে শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয়। কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গ্রিন টি তে ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। মাছের তেল ও মধু শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত লবন ও চিনি এড়িয়ে চলুন। পরিমিত খাবার খান। বেশী করে পানি পান করুন।


7
কালো জিরা আমাদের সবারই পরিচিত। খাবারে একটু ভিন্ন স্বাদ আনতে কালো জিরার তুলনা নেই। কিন্তু কালো জিরার ব্যবহার শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্যই সীমাবদ্ধ নয়, এর রয়েছে আরোও অনেক ব্যবহার । অতি প্রাচীনকাল থেকেই প্রায় সব ধরণের সভ্যতায় এর ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কালো জিরার বীজ থেকে তৈরি হয় কালোজিরা তেল । এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

তাই, আসুন জেনে নেই কালো জিরা ও কালোজিরা তেল এর উপকারিতাগুলো।

কালোজিরা তেল এর উপকারিতা

“বুখারী শরিফ” এ বলা হয়েছে, ‘তোমরা কালো জিরা ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই সকল রোগের নিরাময় ইহার মধ্যে নিহিত রয়েছে- মৃত্যু ছাড়া’

কালোজিরার তেলে ১০০টিরও বেশি উপযোগী উপাদান আছে। এর মধ্যে প্রায় ২১ শতাংশ আমিষ, ৩৮ শতাংশ শর্করা এবং ৩৫ শতাংশ ভেষজ তেল ও চর্বি। এটি নিয়মিত সেবনে নানা ধরণের উপকারিতা পাওয়া যায়।

নিম্নে কালো জিরার তেল ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করা হলঃ

১। এক চা-চামচ পুদিনা পাতার রস বা কমলার রস অথবা এক কাপ রঙ চায়ের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার করে পান করলে দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং মেধাবিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে।

২। এক চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে তিন চারদিন খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হয়।

৩। বাতের ব্যাথায় আক্রান্ত স্থানে নিয়মিত কালো জিরার তেল মালিশ করলে বাতের ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৪। যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কালোজিরার ভর্তা রাখুন ।এছাড়াও, কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার অবসান ঘটায়।

৫। নিয়মিত কালো জিরা খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।

উল্লেখিত এ সকল উপকারিতা ছাড়াও কালো জিরার আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। নিয়মিত কালো জিরা খেলে প্রায় সকল প্রকার শারীরিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কালো জিরার এত গুনাগুন যা বলে শেষ করা যাবে না।



Source: Khaas Food


8
Life Style / দিনের শুরু হোক এভাবে...
« on: September 18, 2019, 12:58:17 PM »
প্রতিটি ভোর মনে করিয়ে দেয়, আরও একটি দিন আমাদের জীবনে উপভোগ করার সুযোগ এলো। সারা দিন অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় আমাদের। তাই দিনের শুরুটা হোক সবচেয়ে সুন্দর করে। যেন সকালের প্রভাব পুরো দিন আমাদের ভালো ও কর্মক্ষম রাখে।

কীভাবে? জেনে নিন:

প্রার্থনা

স্নিগ্ধ একটি সকালের শুরু যদি যার যার ধর্মের প্রর্থনার মাধ্যমে হয় তাহেলে দেখবেন মন অনেক বেশি শান্ত থাকে। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে, নিজের ধর্মের প্রার্থনা দিয়ে দিন শুরু করুন। এতে মানসিক শান্তি যেমন পাবেন, অস্থিরতা ও উদ্বেগ দূর হবে। শারীরিক উপকারিতাও কিন্তু কম নয়। আর এজন্য প্রয়োজন ইচ্ছা ও মাত্র কয়েক মিনিট সময়।

ব্যায়াম

প্রতিদিন সাধারণত আমরা যে সময়ে ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করি ব্যায়াম করার জন্য একটি ঘণ্টা তো দূরের কথা বিশ মিনিটের সময় বের করাও কঠিন। কিন্তু আমরা যদি সকাল ৬টা থেকে দিন শুরু করি তবে দেখুন কত সময়। চাইলে ব্যায়াম করতে পারেন। হাঁটা বা ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ আর ইয়োগা যে কোনোটি করতে পারেন। আবার ঘরের টুকিটাকি কাজ করলেও কিন্তু আমাদের ওয়ার্ক আউটটা হয়ে যায়। যেমন বিছানা গোছানো, ফার্নিচার মোছা, মেঝে পরিষ্কার, করতে পারেন যে কোনোটি।

কাজের তালিকা

অনেক সময় খুব জরুরি কারণে কাউকে ফোন করতে হবে, কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে আর হয়ত মনেই থাকে না। তাই সারা দিনের জন্য কাজের পরিকল্পনা করে নিন। একটি ডায়েরিতে জরুরি তালিকা করে রাখলে কাজ করা সহজ হবে। আর কাজের চাপে কোনো কিছু ভুলে গেলেও লেখা থাকলে কাজ মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। ও আরেকটি বিষয়, আমরা শুধু কাজের তালিকার কথা বলি। কিন্তু কাজের ফাঁকে যে বিশ্রাম নিতে হবে তাও লিখে রাখুন।

স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট

কোনো সন্দেহ নেই সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। কিন্তু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠায় আমাদের অনেকেরই সকালে নাস্তা না করে কাজে দৌঁড়াতে হয়। আর কাজের চাপে অনক দিনই নাস্তা করার সময় হয় না। রাতের পর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্যই নিয়মিত সকালে ওঠার অভ্যেস করতে হবে এবং সকাল আটটার মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে কাজের উদ্দেশে বের হতে হবে। রুটি, সবজি, ডিম, যে কোনো একটি ফল আর চা হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাস্তা। তবে ভিন্নতা আনতে মাঝে মাঝে দুধ দিয়ে কর্নফ্লেক্স বা সবজি খিচুড়িও খাওয়া যায়।

সময় নিয়ে তৈরি

তাড়াহুড়ো করে অফিস বা ক্লাস ধরতে হলে অনেক সময় যেন-তেন মতো দৌঁড়ে বেরিয়ে যাই। কিন্তু সকালে একটু আগে উঠতে পারলে প্রয়োজন মতো তৈরি হওয়ার সময় পাওয়া যায়। যেমন অফিসে জরুরি মিটিং-এ বাইরের কোনো অফিসের কর্মকর্তা আসবে। আপনি যেখানে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন সেখানে সাজ পোশাকটা তো তেমনই হওয়া চাই। তাই তৈরি হওয়ার জন্য নিয়মিত হাতে অন্তত কিছুটা সময় রেখে বিছানা ছাড়ুন।

আধা লিটার পানি

এটা আবার এমন কি জরুরি কাজ, তাই ভাবছেন? কিন্তু প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে নিয়ম করে অন্তত আধা লিটার পানি পান করুন। কারণ আমাদের ত্বক এবং শরীর সব কিছুর সুস্থতার জন্যই পানি অপরিহার্য।

Source: স্বাস্থ্য টিপস

9
মানসিক চাপ কমায় যে ৫টি পরিচিত খাবার-

১. কাজুবাদাম

কাজুবাদাম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দস্তার একটা ভালো উৎস। দুশ্চিন্তা আর বিষাদগ্রস্ততা দূর করতে খুবই কার্যকর এই দস্তা। শরীরে দস্তার চাহিদা পূরণ করতে পারলে, নিয়মিত এই দস্তার জোগান দিতে পারলে স্নায়ুতন্ত্রকে ঠান্ডা রাখার কাজটা অনেক সহজ হয়।

২. ওট

প্রচুর আঁশযুক্ত এই খাবার শরীরের নানা চাহিদা মেটায়। বিশেষত মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তৈরিতে খুবই সহায়ক ওট। সেরোটোনিন এমন এক রাসায়নিক যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ভালো লাগার’ রাসায়নিক হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন।

৩. আখরোট

আখরোটের নানা পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আছে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসহ অন্যান্য পলিফেনোল। এসব উপাদান মস্তিষ্কের চিন্তা ক্ষমতাকে বাড়ায়, প্রখর করে। ফলে নিয়মিত কিছুটা আখরোট খেতে পারলে আপনার চিন্তা ক্ষমতা বাড়বে আর তা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

৪. কমলা লেবু

ভিটামিন-সিসমৃদ্ধ কমলা লেবুর অনেক উপকারের কথা তো আমরা জানিই। মন বিষণ্ন থাকলে, শরীর অবসাদগ্রস্ত হলে খানিকটা কমলা লেবুর রস মুহূর্তেই চাঙা করে দিতে পারে। শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও সহজ।

৫. রসুন

রসুনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুবই সহায়ক। নিয়মিত রসুন খেলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি মানসিক চাপে থাকা মানুষদের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক। তাই খাবারদাবারে নিয়মিত কিছুটা রসুন খান, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন।

Source: স্বাস্থ্য টিপস

10
আমাদের দিন শুরু ও শেষ হয় দাঁত ব্রাশ করা দিয়ে। অথচ অনেকেই হয়তো জানেন না দাঁত ব্রাশ করার সঠিক নিয়মকানুন; বিশেষ করে আপনি নিজেই যদি না জেনে থাকেন, তবে বাড়ির শিশুটিকে শেখাতেও পারবেন না। আর সঠিক নিয়মে ব্রাশ না করলে লেগে থাকবে দাঁত ও মুখের নানা সমস্যা।

তাই জেনে নিন কখন, কীভাবে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

১: প্রথম কথা হচ্ছে টুথব্রাশ বাছাই করা। ভালো মানের টুথব্রাশ ব্যবহার করুন, যার শলাকাগুলো বেশি শক্ত বা বেশি নরম নয়। ছোটদের জন্য ছোট আকারের ব্রাশ দরকার, যা ওদের মুখে সহজে আঁটে।

২: পরিমিত মাত্রায় পেস্ট নিয়ে সকালে নাশতার পরে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করুন। সম্ভব হলে ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। শিশুদের জন্য কম ঝাঁজাল টুথপেস্ট বেছে নিন।

৩: ব্রাশের শলাকাগুলো দাঁতের সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি কোনাকুনিভাবে ধরে ওপর পাটির দাঁত ওপর থেকে নিচে এবং নিচের পাটির দাঁত নিচ থেকে ওপরে ব্রাশ করুন।

৪: দাঁতের ভেতরে ও বাইরের অংশে সমান সময় নিয়ে ব্রাশ করুন। তাড়াহুড়া করবেন না। কমপক্ষে দুই মিনিট সময় নিয়ে ব্রাশ করুন।

৫: তিন মাস অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ব্রাশের শলাকাগুলো বাঁকা হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করতে হবে।

৬ : দিনে কম পক্ষে দুবার ব্রাশ করার পাশাপাশি অন্য সময় চকলেট কিংবা মিষ্টিজাতীয় আঠালো খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁত ব্রাশ করুন।

যা করা উচিত নয়

৭: অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় নিয়ে দাঁত ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে ব্রাশ করার জন্যে দুই মিনিট ই যথেষ্ট। বেশি জোরে ও দ্রুত ব্রাশ করা থেকেও বিরত থাকুন। ব্রাশের আঘাতে যেন মুখের কোথাও ক্ষত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।

৮:সামনে-পিছে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের গোড়া ক্ষয়ে যেতে পারে। ওপর-নিচে ব্রাশ করুন।

৯: টকজাতীয় খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে দাঁতের উপরের স্তর এনামেলের ক্ষতি হতে পারে।



Source: Dental Hub BD

11
দাঁতের চিকিৎসায় স্কেলিং এর প্রয়োজনীয়তা

আসুন জেনে নেই স্কেলিং কি?, এটা নিয়ে আমাদের ভুল ধারণা গুলো কি কি? স্কেলিংএ দাঁতের কোনো ক্ষতি হয় কিনা এবং এটা সবার জন্য কতটা জরুরি।

স্কেলিং কি?

স্কেলিং দাঁতের এক বিশেষ পরিষ্কার পদ্ধতি যা আপনার দাঁতের গোঁড়ায় জমে থাকা প্লাক ক্যালকুলাস(দাঁতের চারপাশে জমা পাথর) এক বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে দূর করে। দীর্ঘদিন এরকম জমে থাকা প্লাক ক্যালকুলাস যদি দূর করা না যায় তবে তা দাঁতে সংক্রমণের সৃষ্টি করে ফলে মাড়ি নরম হয়ে যায় যার পরিনতিতে জিনজিভাইটিস পেরিওডনটাইটিস রোগ দেখা দেয় এমনকি দাঁত নড়ে পড়েও যেতে পারে.

নিয়মিত স্কেলিং কেন প্রয়োজনীয়?


আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই তা দাঁতের চারপাশে জমা হয়। যদি আমরা সঠিক পদ্ধতিতে ও নিয়মিতভাবে দাঁত পরিষ্কার না করি তাহলে এসব খাদ্যকনাগুলো দাঁতের আবরন “পেরিওডেনটাল মেমব্রেনের” উপর শক্ত হয়ে জমে থাকে।এভাবে জমে জমে একসময় পাথরের মতো সৃষ্টি করে।একে ডেন্টাল সাইন্সে ক্যালকুলাস বলে।এইসব পাথর দীর্ঘদিন জমে থাকলে তা একসময় দাঁতের মেমব্রেনটিকে নষ্ট করে ফেলে এবং দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ যেমন জিনজিভাইটিস পেরিওডনটাইটিস, মাড়ি হতে রক্ত পড়া, মুখে দুর্গন্ধ, দাঁত শিরশির সহ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন যদি এই জমে থাকা ক্যালকুলাস প্ল্যাক রিমুভ না করা হয় তাহলে একসময় ঐ দাঁতে ক্যারিজ হয়ে যায়। তাই এই ক্যালকুলাস রিমুভ করার জন্যে প্রতি ছয় মাস পরপর একজন অভিজ্ঞ ডেন্টিস্ট এর পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। তিনি আপনার দাঁত পরীক্ষা করে বলবে আপনার দাঁত স্কেলিং করা দরকার কিনা? এছাড়াও আমাদের দেশে অনেকে তামাক জাতীয় দ্রব্য যেমন বিড়ি সিগারেট পান সাদা পাতা জর্দা গুল সেবন করে যার ফলে দাঁতে বিশেষ করে সামনের দাঁতে কালো বা বাদামি দাগ পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় এইসব দাগ দূর করার জন্যে স্কেলিং খুবই আবশ্যক। সুতরাং স্কেলিং করলে দাঁত দুর্বল হয় না বরং তা মাড়ির রোগকে প্রতিরোধ করে যাতে মাড়ি হতে রক্ত পড়া, মুখে দুর্গন্ধ, দাঁত শিরশির করা ইত্যাদি সবই ঠিক হয়ে যায়।

স্কেলিং নিয়ে সাধারণ মানুষের কিছু ভ্রান্ত ধারনা?

স্কেলিং করলে দাঁত ফাঁক হয়ে যায় বা যাবে কিনা?

মুলত দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের চারপাশে প্রচুর পরিমাণে পাথর জমার ফলে রোগী অনেক সময় ভুলেই যায় স্বাভাবিক অবস্থায় তার দাঁত কেমন ছিল। দুই দাঁতের মাঝে স্বাভাবিক যে স্পেস থাকে তাও রোগী অনেক সময় বুঝতে চায় না। সে কারণে স্কেলিং করার পর যখন পাথর অপসারিত হয় তখন রোগীদের মাঝে কেউ কেউ হয়তো বলে থাকেন স্কেলিং করার পর তার দাঁত ফাঁক হয়ে গেছে।

স্কেলিং করার কারণে দাঁত পাতলা হয়ে যায় কিনা?


আসলে স্কেলিং করার পর পাথর যখন অপসারিত হয় তখন সব রোগীই মুখে সজীবতা অনুভব করেন আবার পাথর থাকার কারণে মুখে যে ভারি ভারি ভাব থাকত তা চলে গিয়ে রোগী হালকা অনুভব করতে থাকেন। এই অনুভূতিকেই অনেক রোগী বলে থাকেন তাঁর দাঁত পাতলা হয়ে গেছে।

স্কেলিং করার ফলে দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হয় কিনা?

স্কেলিং এর সময় দাঁতের উপরের থাকা দাগ, দাঁতের মাঝে জমে থাকা পাথর গুলো বিশেষ আলট্রাসাউন্ড যন্ত্রের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়।সুতরাং এনামেলের ক্ষতির কোন প্রশ্নই আসে না।
সুতরাং দাঁতের রোগ প্রতিরোধে দাঁতের স্কেলিংয়ে সবার সচেতন হওয়া জরুরী।
Source: Dental Hub BD

12
ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন অনেকেই। যিনি নাক ডাকেন, তাঁর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে আর অবধারিতভাবেই পাশের মানুষটির জন্য হয়ে ওঠে চরম বিরক্তিকর। মধ্যবয়স্ক ৪০ ভাগ পুরুষ ও ২০ ভাগ নারী ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। সাধারণ কতগুলো নিয়ম মেনে চললে নাক ডাকার এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

চলুন জেনে নিই ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা সমস্যাটির কিছু কারণ ও প্রতিকারে কিছু উপায়।

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা

কিছু কারণ আছে যেগুলোর কারণে মানুষ ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে। চলুন জেনে নিই সেই কারণগুলো –


১. ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিপথে কোনো বাঁধা পেলে বাতাস শ্বাসযন্ত্রে কাঁপুনির সৃষ্টি করে। এরই ফলে নাক ডাকার শব্দ হয়।
২. ওজন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে গলার চারপাশের চর্বি জমা হয়।
৩. গলার পেশির নমনীয়তা কমে গেলে।
৪. জন্মগত কারণে শ্বাসযন্ত্র সরু হলে বা চোয়ালে কোনো সমস্যা থাকলে।
৫. ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ঘুমের ওষুধ এই সমস্যা বাড়ায়।
৬. থাইরয়েডের সমস্যা ও গ্রোথ হরমোনের আধিক্যজনিত রোগে।
৭. অনেক সময় চিত হয়ে ঘুমালে জিব পেছনে চলে গিয়ে শ্বাসনালি বন্ধ করে দেয়।

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা কমাতে কিছু টিপস

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা কমাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে কিছু পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। দেখুন এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে আপনি নাক ডাকা থেকে মুক্তি পান কি না –
১. কাত হয়ে ঘুমানো
যারা নাক ডাকেন, তারা চিত হয়ে না ঘুমিয়ে কাত হয়ে ঘুমাতে পারেন। চিত হয়ে ঘুমালে গলার পেশি শিথিল থাকে। ফলে নাক বেশি ডাকার আশঙ্কা থাকে।
২. ওজন কমানো
স্থূলতার কারণেও অনেকে নাক ডাকতে পারেন। বেশি ওজনের কারণে গলার পথ সরু হয়ে যায়। এর ফলে শ্বাস নেওয়ার সময় টিস্যু গুলোতে ঘষা লাগে। এতে করে শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হয়।
৩. নেশাজাতীয় দ্রব্য ও ঘুমের ওষুধ পরিহার
অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় দ্রব্য নেওয়ার পরে অনেকে নাক ডাকেন। বিশেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার সময় যারা অ্যালকোহল পান করেন, তাঁরা বেশি নাক ডাকেন।
৪. অতিরিক্ত বালিশ নেওয়া
মাথার নিচে কয়েকটি বালিশ দিয়েও নাক ডাকা কমানো যেতে পারে। মাথার নিচে বালিশ দিলে বুকের চেয়ে মাথা বেশি উঁচুতে থাকে। এতে করে নাক ডাকার আশঙ্কা কিছুটা কমে যায়।
৫. ধূমপান ছেড়ে দেওয়া
ধূমপান করলে শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে বাতাস বের হওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ কারণেও নাক বেশি ডাকতে পারেন অনেকে। তাই ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করাই ভালো।
৬. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা উচিত। এতে করে ঘুমের সঙ্গে শরীরের এক ধরনের সামঞ্জস্য তৈরি হয়। ফলে অভ্যাসেরও পরিবর্তন হয়।
৭. শরীরচর্চা
ব্যায়াম করলে পেশি, রক্তের চলাচল ও হৃদপিণ্ডের স্পন্দন বাড়ে। ফলে ঘুমও ভালো হয়। এ কারণে নাক ডাকা কমাতে হলে প্রতিদিন ৩০ মিনিট শরীরচর্চার  অভ্যাস করা জরুরী।
৮. প্রচুর পানি পান করা
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এতে করে নাকের রন্ধ্রে লেগে থাকা আঠার মতো দ্রব্য গুলো দূর হবে। নাক ডাকাও কমবে।
৯. নাসারন্ধ্রের পথ পরিষ্কার রাখা
নাক পরিষ্কার রাখাটা খুবই জরুরী। কারণ, এতে করে একজন ব্যক্তি সহজ ভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারেন। এ কারণে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো ভাবে নাক পরিষ্কার করতে হবে। এমনকি এ ক্ষেত্রে ইনহেলার ব্যবহার করা যেতে পারে।
১০. ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
শোবার ঘরের তাপমাত্রা আর্দ্র রাখুন। শুষ্ক আবহাওয়ায় নাকের ঝিল্লিতে সমস্যা হতে পারে।
১১. দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া উচিত। এতে করে জেগে থাকা অবস্থায়ই খাবার হজম হয়ে যাবে। এর ফলে রাতে ভালো ঘুম হবে। নাক ডাকাও কমবে।

তবে এসব উপায় অবলম্বন করার পরও যদি নাক ডাকা বন্ধ না হয়, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিসৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।


13
মনের স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। মানসিক দক্ষতা বাড়ানো এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কিছু উপায় অবলম্বন করা খুবই গুরুত্বপূর্ন। নিজের মন ও শরীর ভালো রাখার জন্য খুব জরুরী এবং সাধারণ কিছু বিষয় আমাদের মেনে চলা উচিত। কিছু সময় ব্যয় করুন এ উপায়গুলো আপনার ওপর কতটুকু প্রভাব ফেলছে তা বোঝার জন্য ।

মনের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ১৪টি উপায়-

• মানসিক যুক্তিগুলো অভ্যাস করুন। অধিকাংশ সময় আমরা সরাসরি না বলে কিছু কথা ঘুরিয়ে বলে থাকি। আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি অভ্যাস করা প্রয়োজন।

• কাজ করুন সহজ উপায়ে। অনেক সময় আমরা কাজ কঠিনভাবে করি যা আমরা সহজভাবেও করতে পারি। সহজ উপায়ে কাজ করার অভ্যাস আমাদের মানসিক জটিলতা থেকেও মুক্ত রাখে।

• আন্তরিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করুন। শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনের কথা না ভেবে, পারষ্পারিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন। আন্তরিক সম্ভাষণ আপনার সমস্যাকে মিটিয়ে দেবে এবং দুইপক্ষই ভালো অনুভব করবেন। সম্মানের ভয়, খ্যাতির বিরম্বনা, লাভের তীব্রতা এবং রাগ ও হতাশার ক্ষেত্র, এই অনুভূতিগুলো ক্ষতিকর। এগুলো নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না।

• যতটুকু পারেন ততটুকু করার চেষ্টা করুন। যখন আপনি আপনার সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন তখন আপনার সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকবে কাজের প্রতি। আসলে আমরা প্রতি মুহূর্তে নিজের সাধ্যকে অতিক্রম করার চেষ্টা করি। তাই চেষ্টা করুন নিজের সাধ্যমতো কাজ করতে। সব সময় মনে রাখবেন আপনি আপনার চারপাশের অবস্থাকে কখনই অতিক্রম করতে পারবেন না।

• নিজের প্রতি সচেতন থাকুন কিন্তু সতর্ক নয়। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি উপায় হলো নিজের প্রতি খেয়াল রাখা। এটা সিদ্ধান্ত নিতে এবং নিজের অনুভূতিকে উপলব্ধি করার জন্য সহায়ক। আবার যারা মাত্রাতিরিক্ত আত্মসচেতন তারা সিদ্ধান্ত নিতে এবং কাজে পদক্ষেপ নিতে দুশ্চিন্তায় ভোগে। সেক্ষেত্রে আত্মসতর্কতা কাজ করার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাহীন মানসিকতার পরিচয় দেয়।

• নিজেকে প্রশ্ন করুন? দেখুন আপনার মনোবল এবং শক্তি আপনাকে কী উত্তর দিচ্ছে এবং সেটি সঠিক কিনা?

• দুশ্চিন্তা পরিহার করুন। আমরা দুশ্চিন্তা করে অনেক সময় নষ্ট করি যা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। আপনি যদি আপনার দুশ্চিন্তার বিষয়কে কাজে পরিণত করতে পারেন তাহলে আপনি ভালো থাকবেন। তাই আপনার দুশ্চিন্তাকে কর্মক্ষমতায় রূপান্তরিত করুন।

• নিজেকে সময় দিন। উদ্দেশ্যহীনভাবে কাজ এবং চিন্তা করবেন না। অগোছালোভাবে জীবনযাপন না করে নিজেকে গুছিয়ে চলার চেষ্টা করুন। এটি অত্যন্ত জরুরি যে আমাদের লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে এবং সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে, কর্মশক্তিকে যোগ্য কাজে লাগাতে হবে।। একটু বেশি সময় নিন এবং ধীরে ধীরে বুঝে নিন আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কি না।

• ভুল হলে সাময়িক মন খারাপ করুন কিন্তু অপরাধবোধ ও লজ্জাবোধে ভুগবেন না। যখন আপনি মন খারাপ বোধ করবেন তখন ভুল শুদ্ধির চেষ্টা করুন। এটা নিজেকে নিয়ন্ত্রণের একটা ভালো পদ্ধতি। লজ্জা ও সামগ্রিক অপরাধবোধ আপনার আত্মোপলব্ধিকে নষ্ট করবে।

• মানসিক যন্ত্রণাকে কাজে পরিণত করার চেষ্টা করুন।এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। সমস্যাকে জীবন পরিবর্তনের চাবিকাঠি হিসেবে নিন। কষ্টের মুখোমুখি হোন। যদি তাতে আপনার জীবনে উন্নতি না হয় তবে ব্যবহার অথবা পরিস্থিতির পরিবর্তন করুন।

• ভালো লাগার বিষয় গুলোর কথা ভাবুন। এটি আপনাকে মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। আমাদের প্রত্যেকের শখের বিষয় রয়েছে। আমাদের সাথে যা ঘটে তার ওপর বেশিরভাগ সময় আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। শখ এবং অনুভবের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের নিজেদের প্রতি নিয়ন্ত্রণের একটা নির্দিষ্ট ও আশানুরূপ মাত্রা রয়েছে। তাই শখের প্রতি বা পছন্দের কাজের প্রতি গুরুত্ব দিন।

• অন্যের চিন্তা ভাবনা, মন মানসিকতার কথা চিন্তা করুন। আত্মসতর্কতা, আত্মসম্মানবোধ, আত্মদায়িত্ববোধ এবং আত্মজ্ঞান অন্যকে ভালোবাসার মতো। যখন আপনি নিজের জন্য কাজ করবেন তখন আপনি অন্যের জন্য, পৃথিবীর জন্য ও অবদান রাখতে পারেন। আপনার যদি কিছু না থাকে আপনি অন্যকে কিছুই দিতে পারবেন না।

• ভুল স্বীকার করার মতো সাহসী হোন। মানুষ মাত্রই আমরা সবাই কমবেশি ভুল করে থাকি এবং সমালোচনার ভয়ে তা অস্বীকার করি। যদি ভুলকে স্বীকার করে তা সংশোধন করার জন্য সময় ব্যয় করি তবে আমরা সফল হবো এবং আমাদের মধ্যে মানবিকতা গড়ে উঠবে।

• এই অভ্যাসটি গড়ে তুলুন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ভাববেন না। । আমরা আমাদের জীবনে একটি বিরাট অংশ ব্যয় করি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে যা আমরা এক সময় ভুলে যাই। তাই কিছুক্ষণ বসুন এবং চিন্তা করুন কোনটি আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কোনটি নয়।


14
কারো কারো মুখে প্রায়ই ঘা হয়, ঘন ঘন হওয়া এই ঘা কে এপথাস বলে। এটি মুখের ভেতরে সবখানে হতে পারে। মুখে এপথাসই সবচেয়ে বেশি হয়। পাঁচ জনের মধ্যে এক জন জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে আক্রান্ত হবেই। মহিলাদের পুরুষ থেকে বেশি হয়। চিকিৎসা ছাড়া ১০-১৪ দিনের মধ্যে এটি ভালো হয়ে যায়। ১০ থেকে ৪০ বছরের মানুষের বেশি হয়। বয়সের সাথে সাথে ঘন ঘন হওয়াটা কমে যায়।

মুখের ঘা বা এপথাস আলসার এর ধরণ

০১. মাইনর আলসার

এটিই সবচেয়ে বেশি হয়। ১০ জনের মধ্যে ৮ জন লোকেরই মাইনর আলসার হয়ে থাকে। এটি ছোট, গোলাকার অথবা ডিম্বাকার হতে পারে। এটি সাধারণত আকারে ১০ মিলি মিটার অপেক্ষা কম হয়ে থাকে। এর রঙ হালকা হলুদ, কিন্তু এর চারপাশের অংশ ফোলা ও লাল হয়। সাধারণত একটি হয় তবে ৫ টি পর্যন্ত হতে পারে। ৭-১০ দিন থাকে এবং ওষুধ ছাড়াই সেরে যায়, কোন দাগ ফেলে না। মাইনর আলসারে ব্যথা থাকেনা বললেই চলে।

০২. মেজর আলসার

শতকরা ১০ ভাগের মেজর আলসার হয়। এর আকার ১০ মিলি মিটার থেকে বড় হয়। একবারে একটি বা দুটি হতে পারে। এর বেশি নয়। দুই সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস থাকতে পারে। এতে অনেক ব্যথা হয়। এমনকি খেতেও কষ্ট হয়।

০৩. হার্পেটিফর্ম আলসার

এটি ১০ জনে ১ জনের হতে পারে। ক্ষুদ্র, পিনের মাথার ন্যায় দেখতে, এর আকার ১-২ মিলি মিটার। এক সাথে অনেকগুলো হয় এবং মাঝে মাঝে একসাথে মিলিত হয়ে অসমান, এবড়ো থেবড়ো আকার ধারণ করে। প্রতি আলসার ১ সপ্তাহ থেকে ২ মাস থাকে। নাম ছাড়া হারপিস ভাইরাস বা হারপিস রোগের সাথে এর আর কোন মিল নেই ।

মুখের ঘা বা এপথাস আলসারের কারণ


এর কারণ অজানা। কোন ইনফেকশনের জন্যে হয় না। তাই আপনি একে আগেই ধরতে পারবেন না। এরা সাধারণত আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মানুষের কোন কারণ ছাড়াই হয়।
এর সঠিক কোন কারণ নেই কিন্তু কিছু ফ্যাক্টর বা রোগ এর জন্যে দায়ী। যেমনঃ
১. আঘাতঃ কৃত্তিম দাঁতের পাটি ঠিক ভাবে ফিট না হলে , অসমান টুথব্রাশের আঘাতে হতে পারে।
২. হরমোনের লেভেলের পরিবর্তনঃ কারো কারো পিরিয়ড হওয়ার আগে হয়। কারো কারো মেনপজের পরে হতে পারে।
৩. কিছু কিছু মানুষের সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দেয়ার পর হতে পারে।
৪. আয়রন, ভিটামিন বি-১২ ও ফলিক এসিড এর অভাবেও হতে পারে।
৫. কখনো কখনো কিছু ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবেও হতে পারে। যেমন- অরাল নিকোটিন থেরাপি, নিকোরানডিল, এন্টি ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ ইত্যাদি। এলারজির কারণেও হতে পারে।
৬. মানসিক চাপ, উদ্বিগ্নতার জন্যে হতে পারে। বংশগত কারণেও হতে পারে।
৭. ক্রন’স ডিজিজ, সিলিয়াক ডিজিজ, এইচ আই ভি ইনফেকশনে আক্রান্ত মানুষের মুখের ঘা হতে পারে। কিন্তু এটি এপথাস টাইপ নাও হতে পারে।

এপথাসের পাশাপাশি অন্য সমস্যা থাকলে ডাক্তার কে বলুন। যেমন – চর্ম ও যৌন রোগ, বাতের ব্যথা, কোন ইনফেকশন। যদি মুখের অন্য কোন ঘা বলে সন্দেহ হয় তবে ব্লাড টেস্ট বা অন্যান্য ইনভেস্টিগেশন করান।

মুখের ঘা হলে চিকিৎসা

এর কোন ওষুধের প্রয়োজন নেই। সাধারণত নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু ব্যথা বেশি হলে বা তাড়াতাড়ি ঘা শুকাতে ওষুধ ব্যবহার করা লাগতে পারে। এখানে কিছু ওষুধের নাম দেয়া হল যা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই দোকান থেকে কিনতে পারা যায়।
– ক্লোরহেক্সিডিন মাউথ ওয়াশ
– স্টেরয়েড লজেঞ্জেস
– ব্যাথা নাশক স্প্রে, রিন্স, জেল ( বেঞ্জাইডামিন স্প্রে )
– ব্যারিয়ার পেস্ট বা পাউডার ( কারমেলোজ সোডিয়াম )

এপথাস আলসার হলে মেনে চলতে হবে এমন কিছু নিয়মাবলী

১. নরম ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। দাঁত ফিটিং ঠিক না হয়ে থাকে ডেন্টিস্ট দেখাতে হবে। কোন ওষুধের প্রভাবে হচ্ছে মনে হলে তা পাল্টাতে হবে। যেমন ওরাল নিকোটিন থেরাপি ( গাম বা লজেঞ্জেস) এর পরিবর্তে নাকের স্পে বা প্যাচ ব্যবহার করা যেতে পারে।
২.পানীয় পান করা কালে স্ট্র ব্যবহার করতে হবে। যাতে মুখের সামনের অংশের ক্ষতে না লাগে। গরম পানীয় স্ট্র দিয়ে পান না করাই ভালো, এতে গলা জ্বলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩. মশলাদার খাবার, অম্ল জাতীয় পানি, খুব লবণাক্ত খাবার যেমন ক্রিস্প এড়িয়ে চলতে হবে। এরা ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।



15
তেঁতুলের গুনাগুন নিয়ে অনেকের ভিন্ন মতামত থেকে থাকে। কারো মতে তেঁতুল স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক না। আসুন জেনে নিই, ফল হিসেবে তেঁতুলের স্বাস্থ্য উপকারিতা ।

তেঁতু্লের  স্বাস্থ্য উপকারিতা

০১. তেঁতুলে আছে বেশ কিছু উপকারী খনিজ উপাদান এবং আঁশ, যা হজমে সহায়ক।

০২. এর আঠালো শাঁসে রয়েছে non-starch polysaccharides (NSP) যার উপাদান সেমিসেলুলোজ, মিউসিলেজ, পেকটিন ও ট্যানিস। প্রতি ১০০ গ্রাম তেঁতুলের শাঁসে ৫.১ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার (Dietary fiber) পাওয়া যায়, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ কার্যকরী। এই ফাইবার আমাদের কোলনকে ক্যান্সার উদ্রেককারী রাসায়নিক দ্রব্য (যা খাদ্যের সাথে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে) থেকে রক্ষা করতে সহায়ক। তাছাড়া ডায়েটারি ফাইবার কোলস্টেরল থেকে এক ধরণের লবণ গঠন করে যা কোলনে ক্ষতিকর পদার্থের শোষণ রোধ করে। সেই সাথে শরীরের LDL cholesterol এর মাত্রা হ্রাস করতে তেঁতুলের শাঁস সহায়তা করে।

০৩. লেবুতে যেমন থাকে সাইট্রিক এসিড, তেঁতুল (Tamarind) – এ রয়েছে টারটারিক এসিড (Tartaric acid)। টারটারিক এসিড অধিক টক স্বাদযুক্ত, তবে শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট (Anti-oxidant E-number is E334) যা শরীরকে ক্ষতিকর মৌলিক পদার্থ থেকে রক্ষা করে।

০৪. তেঁতুলে রয়েছে উদ্বায়ী ফাইটোকেমিক্যালস (limonene, geraniol, safrole, cinnamic acid, methyl salicylate, pyrazineও alkyl¬thiazoles)। এসবেরই আছে ঔষধি গুণ।

০৫. যে খনিজ উপাদানগুলো তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান তার মধ্যে পটাশিয়াম, কপার (copper), আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক ও ম্যাগনেশিয়াম উল্লেখযোগ্য। পটাসিয়াম আমাদের জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং হার্টের জন্য এর উপকারী ভূমিকা রয়েছে। আমাদের লাল রক্তকণিকার মূল উপাদান আয়রন। কাজেই তেঁতুল রক্তের জন্যে ভালো। এছাড়া আয়রন আমাদের খাদ্য হজমের এনজাইম গঠনে কাজ করে।

০৬. তেঁতুল ভিটামিনে সমৃদ্ধ। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন বি (থায়ামিন-Thiamine ), ভিটামিন এ, ফলিক এসিড (Folic Acid), রিবোফ্লাভিন (Riboflavin), নিয়াসিন (Niacin) এবং ভিটামিন সি। খাদ্য হজম ও রোগ প্রতিরোধে এসব ভিটামিন-এর ভূমিকা প্রায় সবারই জানা।

০৭. তেঁতুল চিকিৎসাশাস্ত্রে বহুল ব্যবহৃত। বদহজম, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদির ঔষধ হিসেবে এর ব্যবহার বহু কাল ধরে। ঔষধ শিল্পে কোন কোন সিরাপে এর প্রয়োগ দেখা যায়।

Pages: [1] 2 3 ... 16